


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৫৫ বি, শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিট। ভবানীপুরের এই ঠিকানায় রয়েছে তথাকথিত একটি ‘হেরিটেজ’ বিল্ডিং। যদিও সেটি আদৌ হেরিটেজ নয় বলেই অভিযোগ। তাসত্ত্বেও গত কয়েক বছর ধরে সেই বাড়ি সংস্কারের ফাইল নিয়ে টানাটানি চলছে। অভিযোগ, যখন সেই ফাইল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, তখনই রাজ্যে ক্ষমতা বদল হওয়ায় সেই ফাইল আটকে যায়। সেই ‘হেরিটেজ’ বিল্ডিংয়ের সংস্কার ‘গ্রেড’ দানের অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু এই বিল্ডিং নয়, শহরজুড়ে এমন ৩২০টি নন-গ্রেড হেরিটেজ বিল্ডিংকে ‘গ্রেড’ দেওয়ার কাজ প্রায় দেড় বছর ধরে ঝুলে রয়েছে। সেগুলির মধ্যে বহু বিল্ডিং আদৌ হেরিটেজ কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই সমস্ত জরাজীর্ণ বিপজ্জনক বিল্ডিংয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে বসবাস করছেন বাসিন্দারা। পুরসভার অনুমোদন না মেলায় সংস্কারের কাজও করা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, শহরে হেরিটেজ তালিকায় থাকলেও গ্রেডেশন হয়নি, এমন বহু বিল্ডিংকে গ্রেড দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুরসভা। বছর দেড়েক আগে শিবপুর আইআইইএসটিকে এব্যাপারে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত হয়, তারা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাপকাঠি ঠিক করে নন গ্রেড হেরিটেজ বিল্ডিংগুলির গ্রেডেশন করবে। এ নিয়ে একাধিক মিটিংও হয়েছে। কিন্তু, এমন ৩২০টি স্থাপনার গ্রেড ঠিক করার দায়িত্ব শিবপুরকে দেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত লিখিত চুক্তি করে উঠতে পারেনি পুর কর্তৃপক্ষ। এদিকে, সেই সমস্ত হেরিটেজ বিল্ডিং সংস্কারের জন্য আবেদনের পাহাড় জমতে শুরু করেছে। গ্রেডেশন না হওয়ায় ওই বিল্ডিং কীভাবে এবং কতটা সংস্কার করতে পারবে মালিকপক্ষ, তা কেউই হলফ করে বলতে পারছেন না। ফলে ঝুলে রয়েছে এই হেরিটেজ বিল্ডিংগুলির ভবিষ্যৎ।
এ প্রসঙ্গে এলবিএস তথা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার বলেন, শম্ভুনাথ পণ্ডিত স্ট্রিটের ওই বাড়িতে নাকি শম্ভুনাথ পণ্ডিত থাকতেন, এই অজুহাতে সেটিকে হেরিটেজ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে কাগজপত্র খতিয়ে দেখার পর পুরসভা নিশ্চিত হয় সেটি হেরিটেজ বিল্ডিং নয়। ফলে সংস্কারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকতে পারে না। তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, এই বাড়িটি সংস্কারের ফাইল মেয়র পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন করা হবে। কিন্তু, পালাবাদলের পর পুর প্রশাসকের হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতেই গোটা প্রক্রিয়া আটকে যায়। এরপর ফাইলটি শিবপুরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে কবে সবুজ সংকেত মিলবে কিংবা সেগুলি কবে গ্রেড পাবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই বাড়িগুলি জরাজীর্ণ। অনেকেই সেখানে বসবাস করেন। কিন্তু, মালিকদের ইচ্ছা থাকলেও পুরসভার উদাসীনতায় তাঁরা বাড়িগুলি সংস্কার করতে পারছেন না।
এ প্রসঙ্গে শিবপুরের অধ্যাপক শৌভানিক রায় বলেন, আমাদের সঙ্গে পুরসভার লিখিত চুক্তি এখনও হয়নি। অফিসাররা চেষ্টা করলেও পুরসভায় ডামাডোলের কারণেই গোটা প্রক্রিয়া আটকে গিয়েছে। এদিকে, পুরসভার হেরিটেজ বিভাগ জানাচ্ছে, আলোচনা চলছে। দ্রুত চুক্তি করা হবে।