


‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’
পঙ্কজ ত্রিপাঠী • দিব্যেন্দু
আলি ফজল • রবি কিষাণ
গোটা মির্জাপুর তার পকেটে। ঠোঁটে মাপা হাসি, গলায় হুমকি আর দাপুটে সংলাপ— কালীন ভাইয়াকে (পঙ্কজ ত্রিপাঠী) ছাড়া ‘মির্জাপুর’-এর জগৎ ভাবতে পারেন? তা ভাবতে হয়েছিল বলেই বোধহয় তৃতীয় সিজনে হতাশ হয়েছিলেন সিংহভাগ দর্শক। আর সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতেই বড়োপর্দায় ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিরিজের একনিষ্ঠ দর্শকের কি নতুন কিছু পাওনা রয়েছে গল্প থেকে? প্রায় তিনঘণ্টা ১৭ মিনিটের ছবিই সেই জবাব। ছবির শুরু থেকেই স্পষ্ট, নির্মাতারা দর্শকের নস্টালজিয়াকে পুরোদমে কাজে লাগিয়েছেন। পুরনো মুখ, সংঘাত আর মির্জাপুরের গদি দখলের লড়াই— সবই রয়েছে। তবে ওয়েব সিরিজের মতো ধীরে ধীরে চরিত্র তৈরি বা পরিস্থিতি বোঝানোর দিকে এগননি নির্মাতারা। কারণ কালীন ভাইয়া, মুন্নাভাই, গুড্ডু পণ্ডিতদের সকলেই চেনেন। সিরিজটি দেখা থাকলে বাড়তি সুবিধা মিলবে ঠিকই। তবে না দেখলেও বিনোদনে ভাটা পড়বে না। সিরিজের গল্পের সঙ্গে ছবির চিত্রনাট্যের তেমন মিল নেই। নস্টালজিয়া উসকে দিতে রয়েছে কয়েকটি রেফারেন্স। ছবির মূল আকর্ষণ কালীন ভাইয়ার প্রত্যাবর্তন। পঙ্কজের অভিনয়ে যেন হারানো মেজাজ ফিরে পেয়েছে মির্জাপুর। গল্পের কেন্দ্রে সেই পুরনো লড়াই— মির্জাপুরের গদির দখল। মুন্না (দিব্যেন্দু) এখনও বাবার স্বীকৃতি পেতে মরিয়া। অন্যদিকে গুড্ডু (আলি ফজল) নিজের জায়গা ধরে রাখতে সচেষ্ট। আর এই ক্ষমতার দাবাখেলায় নতুন গুটি বাব্বন যাদব। উচ্চাকাঙ্ক্ষী, রাজনীতির ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা এই চরিত্রে বাজিমাত রবি কিষাণের। মুন্নাভাইয়ের ‘সোয়্যাগ’ ছবির বাড়তি অক্সিজেন। গুড্ডুর ভূমিকায় আলি ফজল তুলনাহীন। মুন্নার অহংকার, গুড্ডুর রাগ আর কালীন ভাইয়ার ঠান্ডায় মাথায় ক্ষমতার খেলা— এই তিন মেরুই ছবিকে টেনে নিয়ে গিয়েছে। আর যোগ্য সঙ্গতে বাব্বন যাদব। ‘সচিবজি’র চরিত্র থেকে বেরিয়ে বাবলুতে প্রাণ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জিতেন্দ্র কুমার। তিনি সফল। তবে বিক্রান্ত ম্যাসিকে ভোলা বোধহয় এতটা সহজ নয়। সেন্সর বোর্ডের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করতেই সম্ভবত ছবিতে গালিগালাজের পরিমাণ কমেছে। মহিলা চরিত্রগুলির পরিসর কমেছে। যদিও রসিকা দুগ্গল নজর কাড়েন। তবে গোলুকে (শ্বেতা ত্রিপাঠী) আচমকা মহিলা ডন বানানোর যে চেষ্টা সিরিজের তৃতীয় সিজনে করেছিলেন নির্মাতারা, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি ছবিতে নেই।
মির্জাপুরের সিংহাসন দখলের লড়াই জারি রয়েছে এখনও। ফলে ছবির দ্বিতীয় পর্ব আসবে, ইঙ্গিত মিলেছে শেষে।
শান্তনু দত্ত