


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রহরত্ন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। থানায় নির্যাতিতা অভিযোগ করেছেন, একথা জানার পর অভিযুক্ত ওই তরুণীর বাড়িতে চড়াও হয়। এমনকি, তাঁকে ব্ল্যাকমেল করে টাকাও নেয় ব্যবসায়ী। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণের মামলা রুজু করে দক্ষিণ কলকাতার গ্রহরত্ন ব্যবসায়ী শেখ আবিদকে গ্রেপ্তার করেছে বেহালা থানা। নির্যাতিতা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, দক্ষিণ কলকাতার লেক এলাকায় ওই গ্রহরত্ন ব্যবসায়ীর অফিসে কাজ করতেন তিনি। মালিক শেখ আবিদ তখন থেকেই তাঁকে কুপ্রস্তাব দিত। এমনকি, শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর তরুণী ওই চাকরি ছেড়ে দেন। নির্যাতিতার আইনজীবী জগজিৎ সিং জানিয়েছেন, ২০২১ সালে তরুণী নিজেই ব্যবসা শুরু করেন। একথা জানার পর তরুণীকে হুমকি দিতে থাকে ওই যুবক। এরপর তরুণীর বাড়িতে এসে তাঁকে ধর্ষণ করে বলেও অভিযোগ। তরুণীর বক্তব্য, এরপরই তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এক সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অভিযুক্ত তৎকালীন শাসকদল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তরুণী অভিযোগ জানানোর সাহস পাননি। গত জানুয়ারি মাসে ওই তরুণীর বেহালার বাড়িতে এসে হাজির হয় অভিযুক্ত। তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চাপ দেয় বলে অভিযোগ। কিন্তু নির্যাতিতা রাজি হননি। তখন তাঁকে বলা হয় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি ভাইরাল করে দেবে। এরজন্য টাকা দাবি করে। নির্যাতিতা বাধ্য হয়ে ২০ লক্ষ টাকা দেন। তারপরও আরও টাকা দাবি করতে থাকে। কিন্তু তিনি রাজি না হওয়ায় গত ৩ জুলইি ফের তাঁর বাড়িতে হাজির হয় অভিযুক্ত।
তরুণী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ফের ধর্ষণ করে ওই গ্রহরত্ন ব্যবসায়ী। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর ১৬ জুলাই বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তরুণীর বলেছেন, থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে, এই খবর কোনোভাবে পেয়ে যায় অভিযুক্ত। তারপর ফের তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। পুলিশ ধর্ষণের মামলা রুজু করে গ্রেপ্তার করেছে শেখ আবিদকে। নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে।