


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: প্রায় দু’বছরের সম্পর্ক। মাসখানেক হল এই যুগল মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারে একটি হোটেলে মাঝেমধ্যেই ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। কিন্তু সেই সম্পর্কে ধীরে ধীরে ফাটল ধরতে শুরু করে। রবিবার হোটেলের ঘরেই দু’জনের মধ্যে তুমুল অশান্তি হয়। তারপর লিভ-ইন থাকা সঙ্গিনীকে হোটেলে রেখেই বাড়ি ফিরে যান প্রেমিক। পরের দিন রাতে হোটেলের সেই ঘর থেকে উদ্ধার হয় ৪০ বছরের রীনা রামের ঝুলন্ত দেহ। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় রীনার লিভ-ইন পার্টনার গৌরব শেঠকে গ্রেপ্তার করেছে মধ্যমগ্রাম থানার পুলিশ। মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, মধ্যমগ্রাম পুরসভার পাটুলি-শিবতলা এলাকার বাসিন্দা রীনা রাম বিবাহিতা। তাঁর এক সন্তান রয়েছে। তবে, দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে থাকতেন না। থাকতেন বাপের বাড়ির কাছেই একটি ভাড়া বাড়িতে। প্রায় দু’বছর আগে ওই এলাকারই বাসিন্দা গৌরবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রীনার থেকে গৌরব ১২ বছরের ছোট। মাঝেমধ্যেই তাঁরা ওই হোটেলে একটি নির্দিষ্ট ঘর ভাড়া নিয়ে লিভ-ইনে থাকতেন। এই সম্পর্কের কথা দুই পরিবারের কমবেশি জানা ছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, তিনদিন আগে ওই হোটেলে উঠেছিলেন রীনা ও গৌরব। রবিবার তাঁদের মধ্যে কী নিয়ে অশান্তি হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের সম্পর্ককে ঘিরে টানাপোড়েন চলছিল। রবিবার ঝগড়ার পর গৌরব হোটেল ছেড়ে বাড়ি ফিরলেও ওই ঘরে একাই থেকে যান রীনা। তাঁর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও বেজে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তাঁরা। শেষমেশ খবর দেওয়া হয় মধ্যমগ্রাম থানায়। সোমবার রাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হোটেলে পৌঁছায় পুলিশ। ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। শেষমেশ দরজা ভেঙে ভিতরে ঢোকেন পুলিশকর্মীরা। তখন রীনাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁকে মধ্যমগ্রাম গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার পরিবারের সদস্যরা গৌরব শেঠের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে সোমবার রাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার সময় গৌরব হোটেলে ছিলেন না। অশান্তি নাকি, মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কারণ— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।