


সংবাদদাতা, কাটোয়া: ‘নদীর এপার কহে ছাড়িয়া নিশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস।’ নদীর কোনও পারেই যে সুখ নেই, বর্ষার মরশুমে তা টের পাচ্ছেন কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের তিনটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। ভাগীরথীর জল উপচে ঢুকে পড়েছে গ্রামগুলিতে। বাড়ির বাইরে পা রাখার জো নেই। দেড় মাস ধরে গ্রামের রাস্তা, বাড়ির সামনে হাঁটু সমান জল। নোংরা জল ডিঙিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। জলযন্ত্রণায় জেরবার কাটোয়ার অগ্রদ্বীপের চর কবিরাজপুর, চর কালিকাপুর ও চর বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের কবিরাজপুর, বিষ্ণুপুর, কালিকাপুর গ্রামগুলির পাশ দিয়েই বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী। ভাগীরথীর অপর পারে চর বিষ্ণুপুর, চর কবিরাজপুর ও চর কালিকাপুর তিনটি গ্রাম। গ্রামগুলি পূর্ব বর্ধমান জেলার হলেও নদীয়া জেলার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ভাঙনের জেরে বেশ কয়েকবার ভাগীরথী গতিপথ পাল্টানোয় অগ্রদ্বীপের ওই তিনটি গ্রামের বাসিন্দারা সুখের খোঁজে ছেলেপুলের হাত ধরে নদীর ওপারে, অর্থাৎ নদীয়ার দিকে বসতি স্থাপন করেন। গড়ে ওঠে তিনটি আলাদা জনপদ। নাম হয় চর কবিরাজপুর, চর বিষ্ণুপুর ও চর কালিকাপুর। ভাগীরথী এখন নদীয়া জেলার দিকে ভাঙছে। তাই এপারে এসেও সুখ নেই একদা বর্ধমানের দিকে বসবাসকারী মানুষদের।
কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ভাগীরথীর জল ঢুকে কাটোয়া মহকুমার ওই তিনটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে গিয়েছে। নদীয়া জেলার বেশ কয়েকটি গ্রামও জলমগ্ন। চর বিষ্ণুপুর গ্রামের বাসিন্দা শুক্লা সরকার, ভগীরথ সরকার বলেন, আমরা আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভূখণ্ডের সঙ্গে ছিলাম। ভাঙনের জেরে অগ্রদ্বীপের বিষ্ণুপুর গ্রামের আর কোনও অস্তিত্ব নেই। আমরা এপারে বাড়িঘর করেছিলাম। ভেবেছিলাম এপারে হয়তো সুখশান্তি থাকবে। কিন্তু এবারে বর্ষায় যেভাবে গ্রামের বেশির ভাগ জলমগ্ন হয়েছে। তাতে এপারেও আমাদের সুখ নেই।
কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই বলেছেন ভাগীরথী জাতীয় নদী। সুতরাং তার দায়ভার সব কেন্দ্রের। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে ভাগীরথীর যেখানে ভাঙন রোধে এক টাকাও বরাদ্দ করছে না তারা। কাটোয়ার ওই তিনটি গ্রাম নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে। রাজ্য বাজেটে ভাঙন রোধে দু’ শো কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেই টাকায় আশাকরি ওই এলাকায় কাজ হবে।
মমতা গোস্বামী নামে এক বধূ বলেন, আমার বাড়ির সামনে এক হাঁটু জল। স্বামী সব্জি বিক্রি করেন। তিনিও বেশ কয়েকদিন কাজে যেতে পারেননি। যাতায়াতে অনেক সময়ে আমাদের নৌকাই ভরসা। চর বিষ্ণুপুর গ্রাম থেকে নদীয়া জেলার দেবগ্রাম পর্যন্ত একটি প্রায় ১৫ কিমি পাকা রাস্তা রয়েছে। সেখানেও বুক সমান জল। তিন গ্রামের সব্জির খেত, পাট খেত, কলা বাগান জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বেশ কয়েকটি বাড়ির উঠোনেও জল জমেছে। নেপাল গোস্বামী বলেন, সাঁকো দিয়ে ভাগীরথীর জল ঢুকছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদ সদস্য নিতাইসুন্দর মুখোপাধ্যায় বলেন, আসলে ওই তিনটি গ্রাম নিচু এলাকা, তাই জল জমেছিল। এখন জল নামতে শুরু করেছে।