


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভায় নজিরবিহীন ঘটনা। আজ, বুধবার বিধানসভা কক্ষে কালীঘাটপন্থী এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ। বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন কুণাল ঘোষ। পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠলে মার্শাল ডেকে তৃণমূল বিধায়ক কুণালকে প্রায় চ্যাঙদোলা করে অধিবেশন কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এদিন বিধানসভায় বক্তব্য রাখছিলেন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখারুজ্জামান। অভিযোগ, তাঁকে বলতে বাঁধা দেন কুণাল। মেজাজ হারিয়ে তাঁর দিকে তেড়েও যান। এই ঘটনায় ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের পাশাপাশি বিজেপি শিবিরের একাধিক বিধায়কও আপত্তি জানান। ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শঙ্কর ঘোষকে। কিন্তু বারবারই জোরগলায় কুণালবাবুকে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। অভিযোগ তোলেন, বিধানসভায় তাঁদের কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না।
স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু তাঁকে বারবার সতর্ক করেন। আসনে ফিরে যেতে অনুরোধ জানান। এমনকী বিধানসভা থেকে বের করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন স্পিকার। কিন্তু কুণালবাবু কোনও কথাই শোনেননি। শেষে মার্শাল ডেকে বলপ্রয়োগ করে তাঁকে অধিবেশন কক্ষের বাইরে বের করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিধানসভায় ৩৪৮/২ ধারায় নোটিস দিয়ে পুরো অধিবেশনের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাবও দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ওনাকে বিখ্যাত করার দরকার নেই। একদিনের জন্য সাসপেন্ড করা হোক। ফলে শেষমেশ একদিনের জন্যই সাসপেন্ড করা হয় কুণাল ঘোষকে। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমন অসভ্যতা বিধানসভায় আগে দেখিনি। এই ঘটনা খুবই নিন্দাজনক। আখরুজ্জামান আগে মন্ত্রী ছিলেন। তাঁকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।