


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সংস্থা ও ব্যক্তি মালিকানা মিলিয়ে হাওড়া জেলার পাঁচটি ফেরিঘাটের লাইসেন্স ফি বাবদ বকেয়া ছিল প্রায় দু’ কোটি টাকা। ১৫ দিনের মধ্যে সেই টাকা পরিশোধের জন্য নোটিস দিয়েছিল জেলা পরিষদ। সেই নোটিসের পর অধিকাংশ সংস্থাই বকেয়ার বড়ো অংশ মিটিয়ে দিলেও হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি এক টাকাও জমা দেয়নি বলে দাবি করেছে জেলা পরিষদ। ওই সমিতির অধীনে থাকা দু’টি ফেরিঘাটের বকেয়ার পরিমাণ ৩৩ লক্ষ টাকার কিছু বেশি। ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ায় এবার সমিতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পথে জেলা পরিষদ। চলতি সপ্তাহেই লাইসেন্স বাতিল করে দু’টি ঘাট থেকে সমিতিকে সরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফলে গ্রামীণ হাওড়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ রুটে সাময়িকভাবে ফেরি পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে খবর, হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমিতির অধীনে থাকা বাউড়িয়া-বজবজ ফেরিঘাটের লাইসেন্স ফি ২৫ লক্ষ ১৬ হাজার ১৬০ টাকা বকেয়া রয়েছে। গাদিয়াড়া-নুরপুর-গেঁওখালি ফেরিঘাটের ক্ষেত্রে বকেয়ার পরিমাণ ৭ লক্ষ ৯৮ হাজার ৯১৬ টাকা। দুই ঘাট মিলিয়ে বকেয়ার অঙ্ক ৩৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৭৬ টাকা। বকেয়া পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার পরও ওই টাকা জমা পড়েনি বলে দাবি জেলা পরিষদের। এমনকি, সমিতির তরফে কোষাগার ফাঁকা থাকার যুক্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তুষার ঘোষ বলেন, ‘বাম আমল থেকে তৃণমূল আমল পর্যন্ত হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতি ‘ঘুঘুর বাসা’য় পরিণত হয়েছিল। হাওড়া গ্রামীণের এক প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রীর প্রশ্রয়ে মাসের পর মাস নানা দুর্নীতি চলেছে। অন্য সংস্থার তুলনায় প্রায় অর্ধেক লিজ মূল্যে ঘাট চালানোর সুযোগ দেওয়া হলেও বকেয়া মেটানো হয়নি। এভাবে চলতে পারে না। দু’দিনের মধ্যে টাকা না মেটালে সমিতিকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে।’ আগামী মঙ্গলবার দু’টি ঘাট থেকে সমিতিকে সরিয়ে স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির দাবি, শতাধিক কর্মীর দু’মাসের বেতন বাকি। সামনে পুজো, বোনাসও দিতে হবে। কর্মীদের কথা ভেবে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে বকেয়া মেটানোর চেষ্টা চলছিল। জেলা পরিষদ বিষয়টি বিবেচনা না করলে কর্মীদের পরিবার চরম সংকটে পড়বে বলে দাবি সমিতির। এদিকে, বাউড়িয়া-বজবজ এবং গাদিয়াড়া-নুরপুর-গেঁওখালি, গ্রামীণ হাওড়ার এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। ফলে বকেয়া নিয়ে জেলা পরিষদ ও সমিতির মধ্যে দড়ি টানাটানিতে পরিষেবা বন্ধ হলে বড়ো ধরনের দুর্ভোগের আশঙ্কা তৈরি হবে।