


দুবাই: লোহিত সাগরে ক্রমশ নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে ইয়েমেনের হুথি জঙ্গি গোষ্ঠী। গত বৃহস্পতিবার মোখা বন্দর দখল করেছিল। তারপর পেরিম দ্বীপও কবজা করে নিয়েছে তারা। আর এবার বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও সৌদি আরবের জ্বালনিবাহী জাহাজ যাতায়াতে বাধা দিতে শুরু করেছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথিরা। হরমুজ প্রণালীতে বিধিনিষেধের ফলে ভারত মহাসাগর ও এশিয়ার অন্য অংশে জ্বালানি পরিবহণে বিকল্প রুট হয়ে উঠেছিল বাব আল-মান্দেব । কিন্তু দুটি প্রণালীতেই জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে ফের জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার উপর সৌদির রাজধানী শহর ও মদিনার মধ্যে দিয়ে যাওয়া ইস্ট-ওয়েস্ট অয়েল পাইপলাইন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। শুক্রবার তেলের ওই লাইন সাময়িকভাবে বন্ধের কথা ঘোষণা করে সৌদি আরব সরকার।
শুধু জ্বালানিবাহী জাহাজ আটকেই থেমে থাকেনি হুথি জঙ্গিরা। সৌদির আরব লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে তারা। দেশটির দক্ষিণ প্রাম্তের জাজান এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি মসজিদ সহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। এভাবে অসামরিক এলাকায় হামলা চালানোকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত আইনের পরিপন্থী বলে অভিযোগ করেছে সৌদি প্রশাসন। অন্যদিকে, হুথিদের দাবি, তারা শারুরাহ এলাকায় সৌদি সেনাঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। পালটা হামলা চালালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেও হঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংক্রান্ত সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, লোহিত সাগরে হুথিদের ক্রমাগত বাধায় আগস্ট মাসে এশিয়ার বাকি অংশে সৌদি তেল রপ্তানির পরিমাণ ব্যাপকভাবে ধাক্কা খেয়েছে। গত জুনে এশিয়ায় ৩৪ লক্ষ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছিল রিয়াধ। আগস্টে তা নেমে আসে ১ লক্ষ ২৮ হাজার ব্যারেলে। চলতি মাসে পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও, নতুন করে সংঘাতের জেরে রপ্তানি ফের ধাক্কা খেতে পারে। ২০১৫ সাল থেকেই হুথি জঙ্গিদের সঙ্গে সংঘাত চলছে সৌদি আরবের। ২০২২ সালে দু’পক্ষের সংঘর্ষবিরতির আগে পর্যন্ত এই সংঘাতে অন্তত দেড় লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমেরিকা তার ‘বন্ধু রাষ্ট্রে’র দাঁড়াবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে হুথিদের পালটা জবাব দিতে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুটি পথই খোলা রাখা হচ্ছে। রিয়াধের একটি সূত্র এমনটাই জানিয়েছে। সৌদির তেলের পাইপলাইনে হামলার জন্য অবশ্য ইরানকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন সেনা ইয়েমেনে হুথিদের উপর অভিযান চালাবে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাননি তিনি।