


রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন; মে মাসেই চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করল ভারত। ব্রিটেন সফরের দ্বিতীয় দিনে সেদেশের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে পাশে নিয়ে একথা ঘোষণা করলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদি ও স্টারমারের উপস্থিতিতে এদিন চুক্তি সই করেন দুই দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ও জনাথান রেনল্ডস। একইসঙ্গে নতুন কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে স্বাক্ষর করেন দুই রাষ্ট্রনেতা।বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে মোদি লেখেন, ‘ভারত-ব্রিটেন অর্থনৈতিক অংশিদারিত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। বাণিজ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে মহিলা, কৃষক, যুব সমাজকে সুযোগ দিতে আমরা যৌথভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’স্টারমার চুক্তিকে যুগান্তকারী আখ্যা দিয়ে বলেন, এরফলে ব্রিটেনের হাজার হাজার কর্মসংস্থান হবে। বিনিয়োগ বাড়বে।’ব্রিটিশ বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগ আর রপ্তানিতে প্রায় ৬০০ কোটি পাউন্ড আয় হবে।’ এদিন বিকেলে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন মোদি। চার্লসের হাতে গাছ তুলে দেন তিনি। শরৎকালে সেটি বসানো হবে।
২০২০ সালে ব্রেক্সিটের পর এটাই ব্রিটেনের সবথেকে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। এতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ৩৯ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। বছরে প্রায় ২ হাজার ৫৫০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্য হবে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় বস্ত্র, জুতো, মূল্যবান রত্ন, গয়না, প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক পণ্য ব্রিটিশ বাজারে আরও বেশি পাওয়া যাবে।এতে উপকৃত হবেন ভারতীয় কৃষকরা। লন্ডনের বাজারে হলুদ, গোলমরিচ, আচার, ডালের মতো বেশকিছু কৃষি ওপ্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের আমদানিতে কোনও শুল্ক লাগবে না। বিনা শুল্কে চিংড়ি, টুনার মতো সামুদ্রিক মাছও আমদানি করা যাবে। এতদিন বিনা শুল্কে ব্রিটেন আর ইউরোপে বস্ত্র রপ্তানি করত বাংলাদেশ, কম্বোডিয়ার মতো দেশ। এবার ভারতও সেই সুযোগ পেতে চলেছে।
ভারতীয় বাজারেও ব্রিটিশ পণ্যের উপর শুল্ক কমবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ, হুইস্কি, চকোলেট, গাড়ি সহ একাধিক পণ্যের দাম কমবে।তবে আপেল, ভোজ্য তেল, দুগ্ধজাত পণ্যকে চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। একইসঙ্গে ভারতে নতুন ব্যবসা শুরু করছে ২৬টি ব্রিটিশ সংস্থা। ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে জর্জরিত স্টারমার প্রশাসন। এই চুক্তির ফলে কর্মীদের বেতন বাড়বে। সবমিলিয়ে বছরে ২২০ কোটি পাউন্ড। অন্যদিকে, দেশের বার্ষিক জিডিপি ৪৮০ কোটি পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে।
বুধবার দু’দিনের ব্রিটেন সফরে পৌঁছন মোদি। তাঁকে স্বাগত জানান ভারতীয় অভিবাসীরা। মোদির সঙ্গে ছিল ১৬ শিল্পপতির প্রতিনিধি দল। নেতৃত্বে সুনীল ভারতী মিত্তল। তিনি বলেন, ‘ভারতের শিল্প সমাজ খোলা মনে এই বাণিজ্য চুক্তিকে স্বাগত জানাচ্ছে।’ কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘এই চুক্তি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত আরও মজবুত করল।’