


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: খাদ্যে ভেজাল ধরতে হুগলি জেলায় নেই কোনো ল্যাবরেটরি। খাবারের নমুনা পাঠাতে হয় কলকাতায়। সেখানে অন্যান্য জেলা থেকেও খাবারের নমুনা যাচ্ছে। ফলে রিপোর্ট আসতে অনেক দেরি হচ্ছে। সেজন্য এবার জেলাতেই পরীক্ষা কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার এব্যাপারে রাজ্যের তরফে একটি বৈঠক হয়েছে। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়া ওই বৈঠকে রাজ্যের সঙ্গে জেলার স্বাস্থ্য কর্তারাও ছিলেন।
হুগলি জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক বিশ্বজিৎ মান্না বলেন, গত কয়েকদিনের অভিযানের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা খাদ্যের নমুনা কলকাতার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। তবে সব রিপোর্ট এখনো পর্যন্ত আমরা পাইনি। তাই জেলাতেই পরীক্ষা কেন্দ্র গড়তে রাজ্য পরিকল্পনা নিয়েছে। সে বিষয়ে আলোচনাও হয়েছে। রাজ্য আশ্বাস দিয়েছে জেলায় একটি ল্যাবরেটরি তৈরি করা হবে। এরজন্য প্রায় চার হাজার স্কয়ার ফুট বিশিষ্ট জমি দেখার জন্য নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। আমরা সেই জমির খোঁজ শুরু করেছি।
খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খাদ্য সুরক্ষা সপ্তাহ পালন হয়েছে। তাতে আরামবাগ মহকুমা সহ হুগলি জেলায় বহু রেস্টুরেন্ট, দোকানে বাসিপচা ও নিম্নমানের খাবার বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। কিছু ক্ষেত্রে খাবারে বিপজ্জনক রংয়ের ব্যবহার দেখতে পেয়েছেন খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। সেইসব খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কলকাতার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু, রিপোর্ট এখনো খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর হাতে আসেনি। সেজন্য জেলার মধ্যেই ল্যাবরেটরি গড়ার দাবি উঠেছে।
জানা গিয়েছে, হুগলি জেলার সদর শহর চুঁচুড়াতেই পরীক্ষা কেন্দ্র গড়তে জমির খোঁজ শুরু করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। জমি চূড়ান্ত হলেই তার রিপোর্ট রাজ্যে পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন মিললে পরীক্ষা কেন্দ্রের ভবন তৈরি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন। এব্যাপারে পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ বলেন, বিগত দিনে তৃণমূল সরকার খাদ্য সুরক্ষার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা করেনি। আমাদের সরকার আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী খাদ্যে ভেজাল রয়েছে কিনা তা যাচাই করতে মেগা অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন। সেইমতো শহর থেকে গ্রামে অভিযান চলছে। একাধিক ভেজালের নমুনাও ধরা পড়ছে। তবে নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরি জেলাতেই তৈরি করার বিষয়টিও আমরা বিবেচনার মধ্যে রেখেছি। আশা করছি এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই খাদ্যে ভেজালের অভিযোগে একাধিক প্রতিষ্ঠান সিল করে নোটিস দিয়েছে প্রশাসন। ভেজাল খাবার বাজেয়াপ্ত করে নষ্ট করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।