


সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: টানা ৪৩ ঘণ্টা অন্তর্ধানের পর অবশেষে বক্সার জঙ্গল ছেড়ে অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে চলে যাওয়া বাঘিনি তার অস্তিত্বের জানান দিল। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁয়ের দাবি, শুক্রবার বিকেলের দিকে রেডিয়ো কলারের সংকেত মিলেছে। বাঘিনি অসমের হাতিগড় বনবস্তি থেকে রায়মোনা জঙ্গলের গভীরে চলে গিয়েছে। বনমন্ত্রী আরও বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শনিবার আমি নিজেই অসমের কচুগাঁও যাচ্ছি। গোটা বিষয়টি নিয়ে কচুগাঁও বনবিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।
উল্লেখ্য, বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা তিনবছর বয়সি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারটিকে ২ অক্টোবর বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়। কিন্তু, বাঘিনি ২০ দিনও বক্সার জঙ্গলে থাকেনি। বক্সার পূর্ব ডিভিশনের জঙ্গলে রেইকি করে কুমারগ্রামের সংকোশ নদী পেরিয়ে অসমের রায়মোনা জঙ্গলের দিকে চলে যায়। পরে বাঘিনি রায়মোনা জঙ্গল সংলগ্ন অসমের রাজেন্দ্রপুর আলি বনবস্তিতে আস্তানা গাড়ে। পরে সেখান থেকে আরও ২০ কিমি দূরে হাতিগড় এলাকায় চলে যায়। হাতিগড়ে ঠিকানা বদলের পর বক্সার বাঘিনির আর কোনো হদিশ মিলছিল না। রেডিয়ো কলারের সংকেতও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের কন্ট্রোল রুমে আসছিল না। তা নিয়ে বনদপ্তরের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। শেষপর্যন্ত টানা ৪৩ ঘণ্টা অন্তর্ধানে থাকার পর শুক্রবার বিকেলে বাঘানি তার অস্তিত্বের জানান দিয়েছে। বাঘিনি হাতিগড় থেকে বেরিয়ে রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের আরও গভীর জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।
বনদপ্তরের অনুমান, বাঘিনি হয়তো গভীর শ্যাডো জোনে চলে গিয়েছিল। সেই কারণে রেডিয়ো কলারে তার অবস্থানের সংকেত আসছিল না। শেষপর্যন্ত শুক্রবার বিকেলে সংকেত মিলেছে বলে বনমন্ত্রীর দাবি। যদিও এদিন অসমের কচুগাঁও বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফা আলি আহমেদ বলেন, আমরা এ বিষয়ে আর কিছু বলব না। বক্সার বাঘিনিকে নিয়ে এখন থেকে যা বলার পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরই বলবে।