


সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: ভুটানের হ্রদ বিপর্যয় আতঙ্কে বৃহস্পতিবার বিনিদ্র রজনী কাটালেন নাগরাকাটাবাসী। ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবরের দুর্যোগের স্মৃতি রাতভর তাড়া করল তাঁদের। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে সতর্ক করা হয় বাসিন্দাদের। যদিও শুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই কিছুটা স্বস্তি ফেরে নাগরাকাটা ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষাধিক বাসিন্দার।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা নাগাদ ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে নাগরাকাটাবাসীকে সতর্ক থাকতে বলা হয়। ভুটানের জল যেকোনো মুহূর্তে জলঢাকা নদীতে আছড়ে পড়ে হড়পা বান আসতে পারে বলে জানানো হয়। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়ে যায়। ফলে ব্লকজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত ছিলেন সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বামনডাঙা চা বাগানের মডেল ভিলেজের বাসিন্দারা। কারণ তাঁদের ক্ষতটা এখনও তাজা। গত বছরের ৫ অক্টোবর মডেল ভিলেজের পাশেই জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে হু হু করে ঢুকেছিল জল। ভেসে গিয়েছিল কয়েকশো বাড়ি, গবাদিপশু। প্রাণ হারিয়েছিলেন ১১ জন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে হারানোর যন্ত্রণা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে।
সেবার টানাটানি সেতুর একাংশ ভেঙে নাগরাকাটার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তাই বৃহস্পতিবার রাতে মডেল ভিলেজের বাসিন্দারা বাড়ির দলিল, আধারকার্ড সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বুকে আগলে রেখে সারারাত কার্যত জেগে বসেছিলেন। মডেল ভিলেজের বাসিন্দা আকাশ মুণ্ডা বলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে জলঢাকা নদীর জলস্ফীতিতে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান মারা যায়। এখন আমি একা। বৃহস্পতিবার প্রশাসন মাইকিং করতেই গতবছরের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি চোখের সামনে ভেসে ওঠে। সারারাত ঘুমাতে পারিনি।
আরএক বাসিন্দা সোরেল টিগ্গা বলেন, গতবছর যে বাঁধটা ভেঙেছিল, সেখানে এখনও কংক্রিটের বাঁধ হয়নি। মাটি দিয়ে কোনোমতে তা আটকানো হয়েছে। এবার বর্ষার বৃষ্টিতে বিভিন্ন জায়গায় মাটি ধসে গিয়েছে। জলঢাকায় একটু জল বাড়লেই মাটির বাঁধ খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে। তাঁর আক্ষেপ, আবার ভেসে যাবে মডেল ভিলেজ।