


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুলিসের চাকরিতে যোগ দিতে গেলে নির্দিষ্ট উচ্চতা ও বুকের ছাতির মাপ আবশ্যক। নির্দিষ্ট যোগ্যতামান থাকলে তবেই লিখিত পরীক্ষায় বসতে পারেন প্রার্থীরা। চাকরিরত প্রতিটি পুলিস কর্মীর এই সংক্রান্ত তথ্যপঞ্জি কেন্দ্রীয়ভাবে রয়েছে। কিন্তু সিভিক ভলান্টিয়ার বা ভিলেজ পুলিসদের এই ধরনের কোনও তথ্য ভাণ্ডার নেই। এই কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এবার তাঁদের ওজন, উচ্চতা ও ছাতির মাপ কত, তার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে রাখার উদ্যেগ নিয়েছে রাজ্য পুলিস। জেলায় কর্মরত সিভিক ও ভিলজ পুলিসের এই সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাঠাতে বলা হয়েছে রাজ্য পুলিসের সদর দপ্তরে।
রাজ্যে এই মুহূর্তে সিভিক ভলান্টিয়ারের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৭১৪ জন। ভিলেজ পুলিসে কর্মরত লোকের সংখ্যা ৩,৩৫১ জন। জেলা পুলিসের বিভিন্ন থানা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বড় ভরসা সহযোগী পুলিস কর্মীরা। রাজ্য পুলিসে কনস্টেবল পদে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ রয়েছে। তাঁদের কাজের একটা বড় অংশ সামলাতে হয় সিভিক ভলান্টিয়ার ও ভিলেজ পুলিসকে। প্রথম দিকে তাঁদের নিয়োগের ক্ষেত্রে উচ্চতা ও বুকের ছাতির জন্য নির্দিষ্ট কোনও যোগ্যতামান রাখা হয়নি। এই কারণে ডিউটি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছিলেন অনেকেই। ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ পর্যন্ত শুনতে হয়েছে তাঁদের। নবান্নের প্রশাসনিক কর্তারা বুঝতে পারেন, পুলিসের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্য সিভিক ও ভিলেজ পুলিসের একটা মাপকাঠি বেঁধে দেওয়া দরকার। কী কী যোগ্যতামান দরকার, তা ঠিক করে দেয় নবান্ন। কিন্তু এই সংক্রান্ত তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে নেই। এই কারণে অফিসাররা সিভিক বা ভিলেজ পুলিসের বিষয়ে উল্লেখিত তথ্য চাইলে এক ক্লিকে দেখতে পাচ্ছেন না।
পাশাপাশি পুলিসের চাকরিতে সিভিক ও ভিলেজ পুলিসে কর্মরতদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা নির্দিষ্ট হয়েছে। সেই কারণে কেন্দ্রীয়ভাবে সিভিক ও ভিলেজ পুলিসে চাকরিরতদের উচ্চতা, ওজন ও বুকের ছাতির মাপ জানা জরুরি। এঁদের মধ্যে কারা পুলিসের চাকরিতে আবেদন করার যোগ্য, তা বুঝে নিতে পারবেন অফিসাররা।
প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলা থেকে তথ্য এসে গেলেই এই তথ্যপঞ্জি করে ফেলা হবে। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিসের তরফে নবান্নে পাঠানো এক প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সিভিক ও ভিলেজ পুলিসে কর্মরতদের সপ্তাহে একদিন সবেতন ছুটি দেওয়া হোক। তাঁদের জন্য বছরে দশটি ছুটির ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ছুটি সর্বোচ্চ ৫০ দিন পর্যন্ত জমিয়ে রাখতে পারবেন তাঁরা। তবেই জরুরি প্রয়োজনে সিভিক ও ভিলেজ পুলিস কর্মীরা ছুটি নিতে পারেন। বেতন থেকে টাকা কাটা যাবে না। প্রস্তাবে সবুজ সংকেত মিলবে বলেই আশা কর্তাদের।