


নয়াদিল্লি: যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কয়েকমাস বন্ধ ছিল হরমুজ প্রণালী। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে প্রধান ‘রুট’ বন্ধ থাকার ব্যাপক প্রভাব পড়ে বাজারে। ভারতেও এই কারণে দফায় দফায় বেড়েছে রান্নার গ্যাসের দাম। সেই দিন অতীত। কিন্তু সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছে কেন্দ্র। সরবরাহে ঘাটতি হলেও দেশে যাতে জ্বালানি মজুত থাকে, তার জন্য ৪ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ‘স্ট্র্যাটেজিক ফুয়েল রিজার্ভ’ তৈরির পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র। তবে সেই ভাণ্ডার গড়ার খরচের ভার বহন করতে হবে আম জনতাকেই। পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক সূত্রে খবর, ওই রিজার্ভের খরচ বহনের জন্য প্রতি কেজি এলপিজিতে ১ টাকা ২৯ পয়সা করে সেস বসানোর প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে সরকার। প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে সেই সেসের পরিমাণ হবে প্রতি ঘনমিটারে ১ টাকা ৪৩ পয়সা। মন্ত্রক সূত্রেই খবর, এই সেস কার্যকর হলে রান্নার গ্যাসের দাম সিলিন্ডার পিছু অন্তত ১৮ টাকা বাড়তে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে প্রতি বছর সরকারের ঘরে আসবে ১৫০ কোটি ডলার।
এই প্রথম অপরিশোধিত তেল ছাড়াও অন্য জ্বালানি মজুতের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। এই পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জোগান বন্ধ থাকলেও প্রায় দু’মাসের মতো অপরিশোধিত ও প্রাকৃতিক গ্যাস এবং প্রায় ছয় সপ্তাহের এলপিজি চাহিদা মেটানো সম্ভব। যদিও সাধারণ মানুষকেই কেন এটি তৈরির খরচের দায় নিতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কীভাবে এই সেস নেওয়া হবে সেই পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয়। সরকারি ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্রস্তাবে এখনও ছাড়পত্র দেননি। তিনি সবুজ সংকেত দিলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।