


সংবাদদাতা, লালবাগ: অবশেষে জিয়াগঞ্জ শহরে বাড়ি বাড়ি পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে দিতে আগামী শনিবার জল প্রকল্পের উদ্বোধন হতে চলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। এই প্রকল্প রূপায়িত করতে ৫৬ কোটি টাকা খরচ হবে। এই প্রকল্প চালু হলে জিয়াগঞ্জ শহরে ১৩টি ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের কাছে পরিস্রুত পানীয় জল পরিষেবা পৌঁছে যাবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে জিয়াগঞ্জ শহরে একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ও তিনটি জলাধার নির্মিত হয়েছে। ভাগীরথী নদী থেকে জল তুলে পরিস্রুত করে শহরের তিনটি জলাধারে তোলা হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পাইপ লাইনের মাধ্যমে ওই জল বাড়ি বাড়ি পৌঁছাবে। জল প্রকল্প শুরুর খবরে খুশির হাওয়া জিয়াগঞ্জ শহরে।
জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার জিয়াগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, শহরের রাস্তায় রাজ্য সরকারের জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের ট্যাপ রয়েছে। তা সত্ত্বেও মাঝে মধ্যে অনিয়মিত জল সরবরাহের কারণে শহরবাসীকে সমস্যায় পড়তে হয়। শহরে পানীয় জলের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিন বছর আগে পরিশ্রুত পানীয় জল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৭০ শতাংশ বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বাকি পরিবারগুলিকে প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আনতে কাজ চলছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের নেহালিয়ার বাসিন্দা অমিত মণ্ডল বলেন, রাস্তার ট্যাপে নির্দিষ্ট সময়ে জল আসে। এলাকার একটি বা দু’টি কল থেকে কয়েকশো পরিবার জল নেন। সেজন্য প্রতিদিন সকলের জল পান না। এই জল প্রকল্প চালু হলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে। ভেল্লাডাঙার বাসিন্দা মিনতি ঘোষ বলেন, জলের জন্য ট্যাপের সামনে লম্বা লাইন পড়ে। কিন্তু, সুতোর মতো জল পড়ায় একটি বালতি ভর্তি হতে অনেক সময় লাগে। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুরের বাসিন্দা লতিকা ঘোষ বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় বাড়ি বাড়ি সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এবার প্রকল্প চালু হলেই দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটবে। পুরসভার পানীয় জল প্রকল্প ভোটের গাজর বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। মুর্শিদাবাদ বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক গৌরীশঙ্কর ঘোষ বলেন, এটা আসলে ভোটের গিমিক। শীঘ্রই ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হবে। সেজন্য তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হচ্ছে। মানুষকে এত সহজে বোকা বানানো যাবে না। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়ন্ত দাস বলেন, পুরসভা ভোটের আগে মানুষকে বোকা বানানোর ফন্দি। মানুষ তৃণমূলের চালাকি ধরে ফেলেছে।