


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেচ, খাদ্যসহ বিভিন্ন দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নামে সক্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতারণা চক্র। চাকরি পিছু কারও কাছে ১২ লক্ষ আবার কারও কাছে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়া হচ্ছে। সরকারি আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সই নকল করে প্রতরণা করছে চক্রটি। বর্ধমান সহ বিভিন্ন জেলায় চক্রটি ছড়িয়ে রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চক্রের মাস্টার মাইন্ডরা বিভিন্ন জায়গায় এজেন্ট ছড়িয়ে রাখেছে। তারাই প্রার্থী জোগাড় করে নিয়ে আসে। প্রতারকরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরের কাছে চাকরি প্রার্থীদের ডেকে পাঠায়। তারা নিজেদের সরকারি আধিকারিক পরিচয় দেয়। প্রথমে ইন্টারভিউ নেওয়ার পর তারা মেডিকেল টেস্টের জন্য হাসপাতালে ডেকে পাঠায়। ‘ফিট’ সার্টিফিকেট তারাই জোগাড় করে দেয়।
অন্যান্য সরকারি নথিও তারা জোগাড় করে দেয়। এমনকী, নকল নিয়োগপত্রও তারা তৈরি করে। সেখানে রাজ্যস্তরের শীর্ষকর্তাদের সই থাকে। নিয়োগপত্র দেওয়ার পর তারা কাজে যোগদান করার জন্য দীর্ঘ সময় চেয়ে নেয়। সেই সময় পেরিয়ে গেলে তারা অন্য বাহানায় সময় নষ্ট করে।
এক চাকরি প্রার্থী বলেন, প্রতারকরা প্রভাবশালীদের সঙ্গে ছবি তুলে রেখেছে। আস্থা অর্জন করার জন্য তারা সেই ছবি দেখায়। তারা এতটাই বেপরোয়া যে নিজেদের অ্যাকাউন্টে টাকা নেয়। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এর আগেও প্রতারকদের পাকড়াও করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তেলু মাঝি নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রতারণার চেষ্টা করে। তার কাছে থেকে মেডিকেল কলেজের আধিকারিকদের নকল নামে সই থাকা কয়েকটি নথি উদ্ধার করেছে। সেসব কিছুই সে নিজে নকল করেছিল। এর আগে একটি বড় চক্র গ্রেপ্তার হয়েছিল।
আধিকারিকদের দাবি, বিভিন্ন সময় সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়। প্রতারকরা সেই খবর রাখে। ঠিক সেই সময়েই তারা চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রতরণা করে। তবে, সম্প্রতি একাধিক নতুন চক্র মাথাচড়া দেওয়ায় আধিকারিকদের চিন্তা বেড়েছে। তারা প্রায় সমস্ত দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতরণা করছে। সরকারি নথি নকল করে তারা চাকরি প্রার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। প্রতারিত হলেও ভয়ে অনেকেই অভিযোগ করার সাহস দেখাচ্ছে না। বহু যুবক-যুবতী ধার দেনা করে প্রতারকদের হাতে টাকা তুলে দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ ‘জয়েনিং’ লেটার হাতে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন। এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি নজরে রয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ধৃত প্রতারককেও জেরা করা হচ্ছে। ওই চক্রে আর কারা যুক্ত রয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, যুবক-যুবতীদের সতর্ক থাকতে হবে।