


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বকেয়া ভাড়া মিটিয়েও দোকানে ঢুকতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। পুজোর মুখে দোকানে তালা পড়ায় দেগঙ্গার চিত্ত বসু বাজারে ছড়াল ক্ষোভ। অভিযোগ, বকেয়া টাকা পরিশোধ করার পরেও জেলার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির তরফে দোকানগুলি সিল করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩০টি দোকানে তালা পড়েছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। এর প্রতিবাদে বুধবার বাজার চত্বরে ঘণ্টাখানেক ধরে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন ব্যবসায়ীরা।
দোতলা চিত্ত বসু বাজারে মোট ১৩২টি দোকান। কৃষকদের কাঁচামাল রাখার জন্য রয়েছে কংক্রিটের শেডও। অভিযোগ, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে বাজার তৈরি হলেও অধিকাংশ দোকানে এখন জুতো, জামাকাপড়, খাবার-সহ নানা ধরনের ব্যবসা চলছে। পাশাপাশি, গত ১৫ বছর ধরে চুক্তি অনুযায়ী ভাড়া দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির। এক-একজন ব্যবসায়ীর ৫০-৬০ হাজার থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বকেয়া।
বকেয়া আদায়ে সম্প্রতি নোটিস জারি করে বাজার কর্তৃপক্ষ। শেষ নোটিসে ২৩ আগস্টের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে শনিবার প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী বকেয়া ভাড়া মেটান। রবিবার বকেয়া না মেটানো দোকানগুলিতে তালা ঝোলানো হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তার ঘণ্টা দুয়েক পরেই কৃষি-সম্পর্কিত পণ্য ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা করা যাবে না, এই যুক্তিতে বাকি দোকানগুলিতেও তালা মেরে দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বকেয়া ভাড়া মেটানোর পরে কেন দোকান বন্ধ থাকবে? পুজোর আগে দোকান খুলে দিয়ে সমস্ত ধরনের ব্যবসার অনুমতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে দোকানের চাবি ফেরানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়ী সাবির গাজি, সোমা বিশ্বাসরা বলেন, যাঁরা ভাড়া দেননি, তাঁদের দোকানে তালা পড়ায় আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু আমরা বকেয়া মিটিয়েও দোকান খুলতে পারছি না। পুজোর মুখে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরা তীব্র সংকটে। এনিয়ে রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাশীনাথ মহান্তি বলেন, ভাড়া পরিশোধ করার পরেও যাঁদের দোকানে তালা পড়েছে, তাঁদের অনেকেই আবেদন করেছেন। সেই আবেদনগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র