


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দাদা সেল আছে? আকাশে উঠে রকমারি আলোর ফোয়ারা হবে, এমন বাজি হবে? রবিবার, কালীপুজোর আগের দিন এমন হরেক বাহারি বাজির লিস্ট হাতে দোকানে দোকানে ঘুরছেন ক্রেতারা। কোথাও দোকানদাররা বলছেন নেই, কোথাও যে’কটি বাজি পড়ে রয়েছে, তা পছন্দ হচ্ছে না অনেকেরই। ফলে এক প্রকার হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা। কালীপুজোর আগের দিন এই চিত্রই উঠে এল চম্পাহাটির হাড়াল বাজি বাজারে। সেখানে বেশিরভাগ দোকানেই বাজির স্টক প্রায় শেষ। এদিন দিনভর উপচে পড়া ভিড় ছিল এখানে। পছন্দসই বাজি না পেয়ে শেষবেলায় যেটুকু পাওয়া গিয়েছে, তা নিয়েই শেষমেশ বাড়ি ফিরছেন অনেকে। ভিড়ের চাপে সন্ধ্যায় একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল বাজি বাজার ঢোকার প্রবেশপথ। দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় রাস্তায়। ক্রেতাদের উৎসাহ কোনও অংশেই কমেনি। এবার বাজি বিক্রি নিয়ে চওড়া হাসি ব্যবসায়ীদের মুখে।
জানা গিয়েছে, শনিবার রাত থেকেই স্টক প্রায় শেষ হতে শুরু করে। রাস্তার ধারে অস্থায়ী দোকানগুলি খালি হয়ে গিয়েছে আগেই। সোমনাথ নস্কর নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ভালো বিক্রি হয়েছে। এখন যাঁরা আসছেন, তাঁরা প্রায় কিছুই পাচ্ছেন না। রকেট, তুবড়ি, চড়কি প্রায় শেষ। ফ্যান্সি বাজির স্টক কমে গিয়েছে। শেষবেলায় ফুলঝুরি, রং মশালের মতো কিছু গতানুগতিক বাজি পড়ে রয়েছে। তাই কিনতেই ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিভিন্ন ধরনের সেল প্রায় নিঃশেষ।
রবিবার দিনভর ক্রেতাদের এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। তাঁরা বাজির তালিকা হাতে নিয়ে ঘুরলেও অনেক কিছু পাওয়া যায়নি। গত এক সপ্তাহ ধরে ভালো আবহাওয়ার কারণে আরও বেশি ভিড় হয়েছে বলে দাবি দোকানদারদের। কোনও কোনও দিন সারারাত ধরে বিক্রিবাটা হয়েছে। এমনিতেই এবার পুজোর আগে এবং পরে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, তাতে বাজি তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন অনেকে। তাই তাঁরা কম পরিমাণ বাজি বানিয়েছেন এবার। তবে চাহিদা যা, তাতে যাবতীয় বাজি বিক্রি হয়ে গিয়েছে। চম্পাহাটি হাড়াল আতশবাজি ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সৌরিণ মণ্ডল বলেন, মানুষ উৎসব মুখর হয়েছে। তাঁরা এই আলোর উৎসবে মেতে উঠেছেন। তাঁরা আতশবাজি কিনছেন অনেকে। ভাইফোঁটা মিটে গেলে ব্যবসায়ীরা মিলিত হয়ে বৈঠক করে জানতে পারব, এবার কত টাকার বাজি বিক্রি হল। তবে অনেক বছর পর চম্পাহাটিতে এমন ভিড় দেখে ভালো লেগেছে।