


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের যাতায়াতকে নিরাপদ করার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই নির্দেশের পর পুলিস-প্রশাসন বিভিন্ন জায়গায় পথে নেমেছে। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতে ওই নির্দেশ কাগজে-কলমেই রয়ে গিয়েছে। শহরের একাধিক জায়গায় ফুটপাত জবরদখল হয়ে রয়েছে। যে কারণে যানজটও বহাল। ক’দিন আগে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বারাসতের বিজেপি বিধায়ক একযোগে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান করেছিলেন। ক্যামেরার সামনে তাঁদের তৎপরতা দেখা গেলেও তাঁরা ফিরতেই আবার যে কে সেই অবস্থা। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, দখলমুক্ত করার নামে এত হইচই করে লাভ কী হল? বিস্ময়কর ছবি চাঁপাডালি মোড়ে। জানা গিয়েছে, রাস্তার ধারে ব্যবসা করার জন্য হকার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কারিগর ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে স্থায়ী জায়গা দিতে তৈরি হয়েছিল কর্মতীর্থ। ২০১৪ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঘোষিত প্রকল্পের উদ্দেশ্যই ছিল রাস্তা-ফুটপাতের উপর চাপ কমানো এবং ছোটো ব্যবসায়ীদের জায়গা দেওয়া। সেই মতো তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলে চাঁপাডালি মোড়ে তৈরি হয় দ্বিতল কর্মতীর্থ। নীচে ৪৫টি, উপরে ৪৬টি— মোট ৯১টি স্টল। সূত্রের দাবি, এর জন্য খরচ হয়েছিল প্রায় ২ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা। কিন্তু নির্মাণ শেষ হওয়ার পর এত বছর কেটে গেলেও অধিকাংশ স্টলই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তালা ঝুলছে সেগুলিতে। অর্ধেকেরও কম স্টল চালু হয়েছে জানা গিয়েছে। সরকারি টাকায় তৈরি নীল-সাদা ভবন মাথা তুলে দাঁড়ালেও তা মানুষের কাজে লাগছে না! তৃণমূল আমলের মতোই অবস্থা বিজেপির তিন মাসের সরকারের। অর্থাৎ একদিকে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঢাকঢোল, অন্য দিকে ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি সরকারি পরিকাঠামোয় তালা! এই সরকারের বয়স ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও কর্মতীর্থ পুরোপুরি চালু করার উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। আর রাস্তার ধারে ব্যবসা চলায় বাড়ছে যানজট, বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। এনিয়ে পুরসভার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কর্মতীর্থর বিষয়টি নজরে আছে। দ্রুত উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। রাজনীতির তরজা নয়, এবার কাজ চান বারাসতের নাগরিকরা। ফুটপাত খালি করার আগে কর্মতীর্থ খুলুন— না হলে প্রায় তিন কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প শুধু তালাবন্দি হয়েই পড়ে থাকবে, বলছেন বারাসতের বাসিন্দারা। নিজস্ব চিত্র