


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূল লাগোয়া বঙ্গোপসাগরে শনিবার তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি কিছুটা শক্তি বাড়াবে। তবে এর প্রভাবে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হচ্ছে ওড়িশাতে। আগের দুটির মতো এই নিম্নচাপের প্রভাব পূর্ব ছাড়াও মধ্য এবং উত্তর ভারতের কিছু অংশে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কাল, সোমবার পর্যন্ত অবশ্য দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় এলাকাসহ অন্যান্য জায়গায় কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়ার জন্য সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা থাকায় রাজ্যের উপকূল এলাকার মৎস্যাজীবীদের সোমবার পর্যন্ত সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
এদিকে, অনকূল পরিস্থিতির জন্য জুলাই মাসে দক্ষিণ ভারত ছাড়া গোটা দেশে বৃষ্টি অনেকটাই বেড়েছে। ফলে খরিফ ফসলের চাষের বৃদ্ধি হয়েছে। কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১০ জুলাই দেশে যে পরিমাণ জমিতে বিভিন্ন খরিফ ফসলের চাষ হয়েছিল, ২৪ জুলাই তা অনেকটা বেড়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত ধান চাষ হয়েছিল ১ কোটি ১৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৩৪ লক্ষ হেক্টর। ডালের চাষ ৫৬ লক্ষ ৬৩ হাজার হেক্টর থেকে বেড়ে ৮৪ লক্ষ ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে হয়েছে। ভুট্টাসহ মোটা দানাশস্যর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ৯৮ লক্ষ ৬৯ হাজার হেক্টর থেকে ১ কোটি ৪২ লক্ষ হেক্টর জমিতে হয়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত তৈলবীজের চাষ দেশের ১ কোটি ১৭ লক্ষ হেক্টর জমিচে হয়েছিল। এখন ১ কোটি ৬৩ লক্ষ হেক্টর জমিতে এই চাষ হয়েছে। খরিফ ফসলের মধ্যে শুধু আখ ও পাটের চাষ জুলাই মাসের প্রথমে স্বাভাবিকের থেকে বেশি ছিল। তবে এখনও পর্যন্ত সার্বিকভাবে খরিফ ফসল চাষের জমিক যে স্বাভাবিক পরিমাণ, তার চেয়ে কম জমিতে চাষ হয়েছে। খরিফ মরশুমে ধান, তৈলবীজ ও ডাল চাষের স্বাভাবিক জমির পরিমাণ যথাক্রমে ৪ কোটি ১২ লক্ষ, ২ কোটি ও ১ কোটি ২৪ লক্ষ হেক্টর। তবে কৃষিবিদরা বলছেন, এখনও অনেকটা সময় রয়েছে। আগস্ট মাসেও খরিফ ফসল রোপণের সময় রয়েছে। আপাতত যা ইঙ্গিত, তাতে সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখা, একাধিক নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত, ‘শিয়ার জোন’-এর জন্য জুলাই মাসের শেষ ভাগে দেশের সিংহভাগ অংশে ভালো বৃষ্টিপাত হবে। ফলে চাষের জমির পরিমাণ আরও বাড়বে।