


সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: মাথার ঘন কালো, সুবিন্যস্ত চুল নারীর সৌন্দর্যের এক অমূল্য সম্পদ। ক্যানসার আক্রান্তদের মুখে হাসি ফোটাতে সেই চুলই দান করলেন রঘুনাথগঞ্জের এক তরুণী। সেখানকার সম্মতিনগরের মনীষা দাসের এই কাজ সবারই প্রশংসা কুড়িয়েছে। মনীষা কলকাতার রামকৃষ্ণ সারদা গার্লস কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেইসঙ্গে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাও ভোলেননি তিনি। ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির জেরে অনেক রোগীরই চুল ঝরে যায়। সেই সমস্ত রোগীদের পরচুলা তৈরির জন্য বহু মানুষ চুল দান করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মনীষাও চুল দানের সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমেই তিনি চুল দান করেছেন।
মনীষা বলেন, আমার চুল যদি কোনো ক্যানসার আক্রান্তের মুখে হাসি ফোটাতে পারে বা তাঁদের উপকারে আসে, তাহলেই সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হবে। একথা ভেবেই আমি চুল দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
মেয়ের এই পদক্ষেপে গর্বিত মা মানসী কর্মকার। তিনি বলেন, মেয়ের এই মানবিক কাজ দেখে আমি খুব খুশি হয়েছি। ছোটবেলা থেকে বাবার হাত ধরেই সমাজসেবার পাঠ পেয়েছেন মনীষা। তাঁর বাবা আশিসবরণ দাস বলেন, আমাদের পরিবারে জাঁকজমক করে জন্মদিন পালনের রীতি নেই। বরং সেই টাকায় দুঃস্থ মানুষকে সাধ্যমতো সাহায্য করা হয়। ছোটবেলা থেকেই মেয়ের মানবিক কাজকর্মের প্রতি ঝোঁক তৈরি হয়েছে। কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করা রোগীদের মনোবল বাড়াতে মনীষার এই কাজের প্রশংসা করেছেন রঘুনাথগঞ্জবাসী।