


নিউ ইয়র্ক: আমেরিকার মাটিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিতর্কে চরমে। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সংঘ প্রধান মোহন ভাগবত। ইতিমধ্যেই মার্কিন নাগরিকদের একাংশ নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে ওই অনুষ্ঠানের বিরোধিতায় সরব হয়েছেন। চলছে প্রচার। তার মধ্যেই ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএসের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেন, ‘ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানকে আমি সমর্থন করছি না। কিন্তু একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানকে বাতিল করার ক্ষমতা প্রশাসনের আছে কি না, তা নিয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই।’ মামদানি জানান, তিনি নিউ ইয়র্কের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের অনেকেই এখনও ভারতে বসবাস করেন। তিনি পরিবার থেকেই ভারতের বহুত্ববাদী সমাজ ও ধর্মনিরপেক্ষতার রূপ সম্পর্কে জেনেছেন ও সেই ধারণার মধ্যে বড়ো হয়েছেন। ফলে বর্জনমূলক মানসিকতার উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা কোনো আন্দোলনের উত্থান দেখাটা তাঁর কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আরএসএসের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল ইন্ডিয়ান ওভারসিজ কংগ্রেসও। তাদের অভিযোগ, মার্কিন নাগরিকদের কাছে নিজেদের সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে সংঘ। তার জন্যই ‘আন্তর্জাতিক একতা’ ও ‘সভ্যতা সংক্রান্ত আলোচনা’র মতো বিষয়কে সামনে রাখছে তারা। মঙ্গলবার ওভারসিজ কংগ্রেসের আমেরিকা শাখার তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আমেরিকার যে সব রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা এবং ব্যবসায়ীরা আরএসএসের অনুষ্ঠানে থাকবেন, তাঁদের ওই সংগঠনের ইতিহাস, মতবাদ ও রাজনৈতিক পরিণতি বোঝা উচিত। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কেবলমাত্র বিদেশের মাটিতে জনসংযোগের জন্য যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তার উপর ভিত্তি করে আরএসএসের মূল্যায়ন করা উচিত নয়। বিশ্বের অন্যতম মহান ও প্রাচীন হিন্দুধর্মকে ‘হিন্দুত্ব’ নামক রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়।