


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুফল পেতে শুরু করেছে বলে দাবি বিজেপির। শনিবার বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে পরিসংখ্যান দিয়েছেন, তাতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মন্ত্রী বলেন, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র
থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা এসেছে। এই টাকা না এলে একাধিক সরকারি সামাজিক প্রকল্প চালানো সম্ভব হত না।
৯ মে রাজ্যে বিজেপি সরকার শপথ নিয়েছে। তার আড়াই মাসের মধ্যে কেন্দ্রের বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে রাজ্য ৭০ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। ভবিষ্যতে নরেন্দ্র মোদি সরকার ধারাবাহিকভাবে বাংলাকে টাকার জোগান দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে এদিন অর্থমন্ত্রীর কাছে আয়ের উৎস সম্পর্কে জানতে চান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তার উত্তরে স্বপনবাবু বলেন, আগের সরকার বহু আয়ের ক্ষেত্রগুলির সদ্ব্যবহার করেনি। নয়া সরকার খনি সহ একাধিক ক্ষেত্রকে চিহ্নিত করে আধুনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কড়া নজরদারিতে রাজস্ব বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চলতি অর্থবর্ষ শেষে রাজস্ব বৃদ্ধির হার ১৮ শতাংশ বাড়বে বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী।
অন্যদিকে শোভনবাবু শিল্প-কৃষি সহ একাধিক ক্ষেত্রে বিগত সরকারের সাফল্য গাথা তুলে ধরেন। বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনবাবু বারবার দাবি করেন, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকই এই স্বীকৃতি দিয়েছিল। জবাবি ভাষণে স্বপন দাশগুপ্ত পালটা বলেন, শোভনবাবু যে সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন অনেক ক্ষেত্রকেই তিনি ১ নম্বরে রেখেছেন। সেগুলি সঠিক হলে আমাদের গর্ব হওয়া উচিত। কিন্তু আমি প্রশ্ন করতে চাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রক এই র্যাঙ্কিং দেয় রাজ্য থেকে পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে। আমি তেমনই একটা উদাহরণ দিতে চাই। এ প্রসঙ্গে বাংলার ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প সংক্রান্ত একটি পরিসংখ্যান তিনি তুলে ধরেন। স্বপনবাবুর দাবি, বিগত সরকার জানিয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ লাখ ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পোদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখলাম মাত্র ২২ লাখ সংস্থা নথিভুক্ত। যার মধ্যে সাড়ে চার লাখ সংস্থার প্যান কার্ডের সঠিক তথ্য নেই। পরে জানা গিয়েছে, বাংলায় প্রকৃতপক্ষে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প সংস্থার সংখ্যা ৯৯ হাজার। এভাবেই ৯৩ লাখ হয়ে গেল ৯৯ হাজার। এই কারণেই এতদিন শিল্পপতিরা বাংলা ছেড়ে পালিয়েছেন।