


বেজিং: আমেরিকার সঙ্গে সখ্য বাড়াতে গিয়ে কি বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা পাকিস্তান? সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনের যে সব ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, তাতে এই জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। চীনের তিয়ানজিন শহরে আয়োজিত এসসিও সম্মেলনে ভারত সহ কুড়িটিরও বেশি দেশ অংশ নিয়েছে। সদস্য দেশ হিসেবে সেখানে পাকিস্তানও সেখানে ছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন চীন, রাশিয়া সহ বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে ব্যস্ত, তখন পাকিস্তানের ক্ষেত্রে অন্য ছবি। বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ সময়ে একা দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। চোখমুখে অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট। পুরো সম্মেলনেই তাঁকে এড়িয়ে গিয়েছেন মোদি।
সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংয়ের সঙ্গে গল্পে মেতেছিলেন মোদি। অথচ অন্য একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জিনপিং ও পুতিন একসঙ্গে হেঁটে যাওয়ার সময় প্রায় দৌড়ে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে করমর্দন করতে এগিয়ে আসেন শরিফ। পুতিন তাঁর সঙ্গে হাত মেলালেও জিনপিং পাক প্রধানমন্ত্রীকে অগ্রাহ্য করেই এগিয়ে যান। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুতিনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হাঁটছেন মোদি। তাঁদের ঠিক পিছনেই দাঁড়িয়ে শরিফ। অথচ পুতিন বা মোদি কেউই তাঁর দিকে তাকানোর প্রয়োজন মনে করেননি। সেখানেও শরিফকে রীতিমতো অপ্রস্তুত দেখিয়েছে।
আমেরিকার শুল্ক-বাণের প্রভাবে যখন ভারত, চীন ও রাশিয়া কাছাকাছি এসেছে, তখন উল্টোপথে হেঁটে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে ইসলামাবাদ। অপারেশন সিন্দুরে পর্যদুস্ত হওয়ার পর পাক সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির দু’বার মার্কিন সফর সেরে ফেলেছেন। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি আমেরিকার ঘনিষ্ঠ হতে গিয়ে কি এশিয়ার রাজনীতিতে একঘরে হয়ে পড়ছে পাকিস্তান? অপারেশন সিন্দুরের সময়ও পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল চীন। ভারতের বিরুদ্ধে বেজিংয়ের দেওয়া অস্ত্রও ব্যবহার করেছে পাক সেনা। আমেরিকার নতুন শুল্ক নীতি চালু হওয়ার পর পুরনো তিক্ততা সরিয়ে কাছাকাছি এসেছে ভারত ও চীন। জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকও করেছেন মোদি। পুতিনের সঙ্গেও সোমবার আলাদা করে আলোচনায় বসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অথচ পাকিস্তানের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠকে বসার প্রয়োজন মনে করেনি দুই দেশ।