


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বসন্তের সকাল। আকাশে হালকা মেঘ। কখনো সূর্য মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে। আবার কখনো মেঘে ঢাকা পড়ছে। এমন আবহাওয়ায় রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ পাতিকলোনির চায়ের দোকানে বেশ কয়েকজনের ভিড়। প্রত্যেকের হাতে চায়ের কাপ। দু’জনের হাতে নিউজ পেপার। কয়েকজন মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বিজেপির ব্রিগেডের খবর দেখছেন।
ওই বাসিন্দাদের মধ্যে একজন দিলীপ রায়। তিনি বেসরকারি সংস্থার কর্মী। তিনি বিজেপির ব্রিগেডের প্রসঙ্গ তুলতেই ফোঁস করেন ওঠেন সুজয় সরকার। তিনি বস্ত্র ব্যবসায়ী। বলেন, শিলিগুড়িতে মনোরেল, চক্ররেল, ডবল ইঞ্জিনের সরকার তৈরির স্বপ্ন ফেরি করেছিল পদ্ম শিবির। ভোটের জেতার পর তাদের আর দেখা নেই। তাই একুশের ভুল আর নয়।
সুজয়কে সমর্থন করে বিশাল বিশ্বকর্মা নামে এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, ঠিকই বলেছেন। দিদিই ভরসা। ভোটাধিকার রক্ষায় এসআইআর নিয়ে লড়াই তৃণমূল কংগ্রেসের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর যুবসাথী দিয়েছেন। তাই এবার এখানে জোড়াফুল। সঙ্গে সঙ্গে জীতেন বর্মন নামে আরএক ব্যবসায়ী বলেন, এবার দিদির কঠিন লড়াই। তা পদ্মের ব্রিগেডের ভিড় থেকেই স্পষ্ট। এনিয়েই চায়ের ঠেক সরগরম।
শুধু পাতিকলোনির চায়ের ঠেক নয়, প্রমোদনগর, মাল্লাগুড়ি, প্রধাননগর, মহাকালপল্লি, আশ্রমপাড়া, সুভাষপল্লি সহ বিভিন্ন প্রান্তে ভোট নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে এমন বিতর্ক দেখা গিয়েছে।
দার্জিলিং জেলা তো বটেই উত্তরবঙ্গের নজরকাড়া আসনগুলির মধ্যে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র অন্যতম। শিলিগুড়ি পুরসভার ৪৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৩টি ওয়ার্ড নিয়ে এই কেন্দ্র। ২০১১ সালে পালাবদলের হাওয়ায় কেন্দ্রটি কব্জা করেছিল জোড়াফুল। তা তারা ধরে রাখতে পারেনি। ২০১৬ সালে বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্যের ‘মডেলের’ কাছে পরাজিত হয় জোড়াফুল। রাজনীতির ময়দানে এই এলাকা ‘লালদ্বীপ’ হিসাবে মাথা তুলেছিল। একুশের নির্বাচনে সিপিএমকে ভাঙিয়ে কেন্দ্রটি কব্জা করে পদ্ম শিবির।
এবার কেন্দ্রটি পুনরুদ্ধার করতে অনেকদিন আগে থেকেই গা ঘামাচ্ছে জোড়াফুল শিবির। কর্মিসভা, পাড়া বৈঠক, পদযাত্রা, উন্নয়নের পাঁচালি পাঠ ধারাবাহিক গতিতে করছে। সেইসঙ্গে এসআইআর নিয়ে লাগাতার আন্দোলন করছে। রান্নার গ্যাসের সমস্যা মেটাতে মানুষের পাশে রয়েছে। তৃণমূলের শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের কো-অর্ডিনেটর কুন্তল রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজকর্ম, বিভিন্ন ভাতা প্রকল্প, এসআইঅর নিয়ে লড়াই এবং পুরসভার নাগরিক পরিষেবা আমজনতার মধ্যে সাড়া ফেলেছে। কাজেই এখানে জেতার ব্যাপারে আমরা একশো শতাংশ নিশ্চিত।
শহরে ওয়ার্ম-আপ করছে পদ্ম শিবিরও। তারা ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের কথা ভোটপ্রচারে তুলে ধরছে। শিলিগুড়ি পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, এখানে রাস্তা, পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়ন কেন্দ্রীয় টাকায় হচ্ছে। তা নাগরিকরা জানেন। আর পুরসভা নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থ। কাজেই তৃণমূলের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না। এবারও এখানে শেষ হাসি হাসবে বিজেপি।