


সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: এনআইএ অভিযানের ১০ দিনের মাথায় বড়সড় সাফল্য দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশের। জঙ্গি-যোগের সন্দেহে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজরে থাকা বংশীহারীর কুশকারী এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমানকে বিহারের একটি গোপন ডেরা থেকে রাতে আটক করলো গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশের বিশেষ দল।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর কাকভোরে জঙ্গি-যোগের সন্দেহে বংশীহারীর কুশকারীতে মজিবুর রহমানের বাড়িতে হানা দিয়েছিল এনআই একটি বিশেষ দল। তবে অভিযানের সময় বাড়িতে অভিযুক্তকে না পাওয়ায় খালি হাতেই ফিরতে হয় তদন্তকারী দলকে। এনআইএ সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, মজিবুর রহমানের সঙ্গে জেএমবি অসম মডিউলের যোগ থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় অসম এসটিএফের তরফেও মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, গত বছর বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসার পরই পুলিশের হাতের নাগাল থেকে পালিয়ে যায় মজিবুর। এরপর প্রায় ১০ মাস ধরে তাকে ধরতে বিশেষ নজরদারি ও ট্র্যাকিং চালিয়ে যাচ্ছিলেন গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। কুশকারীতে এনআইএ অভিযানের পর অভিযুক্তের সন্ধানে তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়। গড়ে তোলা হয় বিশেষ নজরদারি নেটওয়ার্ক। অবশেষে সেই নজরদারির সূত্র ধরেই বিহারে অভিযুক্তের গোপন ডেরার হদিশ পায় পুলিশ। গঙ্গারামপুর মহকুমা পুলিশের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে বংশীহারী থানায় নিয়ে আসে।
মজিবুরকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও তদন্তের পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে এনআইএ আধিকারিকদের সঙ্গে জেলা পুলিশের যোগাযোগ চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এখন প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের নজর এড়িয়ে থাকা মজিবুরের সঙ্গে জঙ্গি-যোগের অভিযোগের নেপথ্যে ঠিক কী তথ্য রয়েছে এবং তার নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃততা তদন্তেই স্পষ্ট হবে।