


সোমেন পাল, গঙ্গারামপুর: দীর্ঘদিনের বেহাল দশা কাটিয়ে এবার নতুন রূপ পেতে চলেছে গঙ্গারামপুরের রবীন্দ্রভবন অডিটোরিয়াম। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে রবীন্দ্রভবন সংস্কারের নির্দেশ দেওয়ার পর তৎপরতা শুরু করেছে গঙ্গারামপুর পুরসভা। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার ডিপিআর রাজ্য পুর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর দপ্তরের অনুমোদন মিললে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে ভবনের ছাদ সংস্কার, দর্শকদের জন্য আধুনিক আসন, মঞ্চের উন্নয়ন, সাউন্ড সিস্টেম, সেন্ট্রাল এসি এবং আধুনিক আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে। ২০০৮ সালে তৎকালীন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ৫০০ আসন বিশিষ্ট রবীন্দ্রভবন তৈরি করে গঙ্গারামপুর পুরসভার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। মহকুমার অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক মঞ্চ হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে এখানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সরকারি কর্মসূচি ও রাজনৈতিক সভা হয়ে এসেছে। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে ভবনের একাধিক অংশ বেহাল হয়ে পড়েছে। ১৫ বছরে তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা কখনও ৩০০ কোটি, কখনও ৫০০ কোটির অবাস্তব ডিপিআর করায় বাস্তবে সেই কাজের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এবার মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর ১০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত প্রকল্পের অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন শহরবাসী। রবীন্দ্রভবন সংস্কার হলে গঙ্গারামপুরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে নতুন করে গতি আসবে বলে আশা করছেন শহরের সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে রবীন্দ্রভবনের ছাদ দিয়ে জল পড়ে। ভেঙে পড়েছে মঞ্চের একাংশ। দর্শক আসনের অবস্থাও একেবারে বেহাল। অকেজো হয়ে রয়েছে এসি। আধুনিক মানের আলো ও শব্দের ব্যবস্থা নেই। ফলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে সরকারি বা রাজনৈতিক কর্মসূচি সব ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় আয়োজকদের। রবীন্দ্রভবনের বেহাল দশার কারণে শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি সাংস্কৃতিক কর্মীদের।
গঙ্গারামপুর পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের এক আধিকারিক বলেন, রবীন্দ্রভবনের পরিকাঠামো অত্যন্ত বেহাল। প্রায় ১০ কোটি টাকার ডিপিআর রাজ্য পুর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কয়েকটি ধাপে অডিটোরিয়ামটিকে আধুনিকমানের গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। অনুমোদন এলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
গঙ্গারামপুরের সাংস্কৃতিক কর্মী শুভ সরকার বলেন, রবীন্দ্রভবনে অনুষ্ঠান করতে গেলে মঞ্চে উঠতে ভয় করে। মঞ্চের একাংশ ভেঙে রয়েছে। আধুনিক আলো, শব্দের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে জল পড়ে। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। • নিজস্ব চিত্র।