


নেপি দ: গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মায়ানমার। তারপর কেটে গিয়েছে ছ’দিন। এখনও চারপাশে ধ্বংসাবশেষের স্তূপ। চাঙর, কংক্রিটের পিলার সরালেই বেরিয়ে আসছে নিথর দেহ। তবুও হাল ছাড়ছেন না উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। যদি কোনও প্রাণের সন্ধান মেলে! সরকারি হিসেব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে। জখম পাঁচ হাজারের মতো। নিখোঁজ প্রায় সাড়ে তিনশো। কিন্তু, বেসরকারি সূত্রের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা বেশ কয়েকগুণ বেশি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ছ’দিন কেটে গেলেও একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছতেই পারেনি উদ্ধারকারী দল। ভূমিকম্পের অভিঘাতে ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চারটি হাসপাতাল ও দু’টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এছাড়া, ৩২টি হাসপাতাল ও ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছে, চিকিৎসা ব্যবস্থাই কার্যত ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থাতেও আক্রান্তদের দেখভাল করাই চ্যালেঞ্জ। হাজার হাজার মানুষের অস্ত্রোপচার দরকার, সিসিইউ-আইসিইউ—ও প্রয়োজন। এরমধ্যে ভারতের পাঠানো একটি মোবাইল হাসপাতাল চলছে মান্দালয়ে। চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছে রাশিয়া-বেলারুশের একটি হাসপাতালও। ভূমিকম্প বহু মানুষের ভিটেমাটি কেড়ে নিয়েছে। মাথার উপর ছাদ হারিয়ে অনেকেই অস্থায়ী ছাউনিতে রয়েছেন। প্রায় ৪০ ডিগ্রি গরমে তাঁদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বাড়িতেও থাকলেও স্বস্তি নেই। আফটার শকের ভয়ে ঘুম উড়েছে অনেকের। মায়ানমারের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৬৬ বার কেঁপে উঠেছে মায়ানমারের মাটি। সেই কম্পনগুলির মাত্রা ছিল ২.৮ থেকে ৭.৫।