


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: আমেরিকা প্রবাসী চিকিৎসক শচীন্দ্রনাথ প্রধান তাঁর প্রয়াত বাবার স্মৃতিতে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। লক্ষ্য ছিল, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাতেকলমে শিক্ষা নিয়ে এলাকার বেকার যুবক-যুবতীরা স্বনির্ভর হবেন। সেই ভাবনা থেকেই রেয়াপাড়ায় নিজের খরচে কলেজ ভবন গড়ে একটি সোসাইটির হাতে তুলে দিয়েছিলেন। বাম জমানায় সেই সোসাইটির সম্পাদক হন সিপিএমের দাপুটে নেতা অশোক গুড়িয়া। ২০০৫সাল নাগাদ সভাপতি হন লক্ষ্মণ শেঠ। ২০০৫-’০৬সাল থেকেই পূর্ণ উদ্যমে ভূতনাথ প্রধান মেমোরিয়াল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির অধীনে আইটিআই, ভোকেশনাল কোর্স, বিএড এবং ডিএলএড কোর্স পঠনপাঠন শুরু হয়।
২০১১সালে পালাবদলের পর কলেজে তাল কাটে। তৃণমূল নেতারা সোসাইটিতে ঢোকার জন্য কলেজের গেট বন্ধ করে পতাকা বেঁধে দেন। বাধ্য হয়ে তাদের দলের নেতাদের সোসাইটিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। সেসময় লক্ষ্মণবাবুকে সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারী সোসাইটির সভাপতি হন। মহাদেব বাগ, বাদল মাইতির মতো তৃণমূল নেতারাও সোসাইটির মেম্বারশিপ পেয়ে যান। ৪মে রাজ্যে ফের পালাবদলে ফের রেয়াপাড়ার ওই কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ১৩জুলাই কলেজের গেট বন্ধ করে বিজেপির ঝান্ডা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেইসময় চাপে পড়ে ঝান্ডা সরিয়ে গেট খোলা হলেও অচলাবস্থা কাটেনি। গত ১২মে থেকে সোসাইটির সম্পাদক অশোক গুড়িয়াকে কলেজে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর সঙ্গে কলেজে ঢুকতে পারছেন না চার শিক্ষক সৌরভ গুড়িয়া, শিবানন্দ বেরা, সঞ্জীবকুমার দাস এবং জ্ঞানব্রত ভুঁইয়া।
স্থানীয় বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র দে-র নেতৃত্বে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ মাধ্যমিকের ভোকেশনাল কোর্সের থার্ড সেমেস্টারের পরীক্ষা আছে। শিক্ষকদের কলেজে ঢুকতে না দেওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কলেজের রাশ নিজেদের হাতে নিতে চাইছেন বিজেপির কিছু নেতা। এক দাপুটে বিজেপি নেতার প্রাইভেট আইটিআইতে ছাত্র ভর্তি করার লক্ষ্যেই নাকি পরিকল্পিতভাবে ভূতনাথ সোসাইটির কলেজে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সোসাইটির সম্পাদক অশোকবাবু বলেন, গত ৪মে পালাবদলের পর হুজ্জুতি চলছে। তছরুপ ও অনিয়ম হচ্ছে প্রচার করে আমাদের এখানে ভর্তি প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা চলছে। ঝামেলা মেটানোর জন্য দু’জন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করা হলেও কিছু লাভ হয়নি।
বিজেপির নন্দীগ্রাম-৪ মণ্ডল সভাপতি সৌমিত্র দে বলেন, অশোক গুড়িয়া, সৌরভ গুড়িয়া, জ্ঞানব্রত ভুঁইয়ারা অর্থ তছরুপে অভিযুক্ত। সোসাইটির সাধারণ সভা না করে মেম্বারশিপ থেকে অনেককে সরানো হয়েছে। ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা লোপাট হয়েছে। এর বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ।
ওই কলেজে স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্যে মধ্যস্থতার দায়িত্বে থাকা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি অঞ্জন ভারতী বলেন, কলেজে আর্থিক অনিয়ম সহ বেশকিছু ঘটনা সামনে এসেছে। সেই সমস্যা কীভাবে মেটানো যায় তা নিয়ে আলোচনা চলছে।