


সংবাদদাতা, বারুইপুর: ২০২০ সালের ৪ আগস্ট রাতে বারুইপুর কাছারি বাজারের কাপড়পট্টি বিধ্বংসী আগুন লেগে ভস্মীভূত হয়ে যায়। দমকলকে ঢুকতে হিমশিম খেতে হয়। কিন্তু সেই অগ্নিকাণ্ড থেকে এখনও শিক্ষা নেয়নি কাছারি বাজারের কাপড়পট্টি। ঘিঞ্জি পরিবেশ। গায়ে গায়ে দোকান। কোথাও নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক মেশিন। শুধু কাছারি বাজার নয়, পুরাতন বাজারেরও একই অবস্থা। দোকানগুলির একটিতেও নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক মেশিন। যে কোনো দিন বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। যদিও এই ব্যাপারে কোনো নজরদারি নেই দমকল থেকে শুরু করে বারুইপুর পুরসভা ও প্রশাসনের। কবে প্রশাসনের হুঁশ ফিরবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। বারুইপুর দমকলের এক অফিসার বলেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরীকে ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
বারুইপুর থানার উল্টোদিকেই কাছারি বাজার। বারুইপুর পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন। এতেই আছে কাপড়পট্টি। এর লাগোয়া দশকর্মা, হাঁড়িপট্টি, কামারশালার দোকান। ২০২০ সালে কাপড়পট্টিতে আগুন লাগার সময় দমকলকে জল জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হয়। সামনে থানার ভিতর থেকে জল আনতে হয়। এখনও সেই অবস্থাই আছে। প্রয়োজন পড়লে দমকল জল কোথা থেকে নেবে, তা জানা নেই। টিনের ছাউনি দেওয়া প্রতি দোকানে। কাপড়পট্টির রাস্তাও এতটাই সংকীর্ণ যে, অনেক ক্রেতা ভিতরে ঢুকে দাঁড়াতে পারেন না। এই কাপড়পট্টিতে আছে ১০৫টি দোকান। যে কোনো দিন আগুন লাগলে কারও বেরিয়ে যাওয়ার উপায়টুকু নেই।
বিষয়টি নিয়ে এক ব্যবসায়ী বলেন, সত্যি খুব বাজে অবস্থায় রয়েছি। অগ্নিকাণ্ডের পরে কোনো ক্ষতিপূরণ এখনও পাইনি। পুরসভা থেকে বলা হয়েছিল, বৈদুতিক তার মাটির নীচে পাতা হবে। কিন্তু তাও হয়নি। পুরসভা ও মালিকপক্ষ প্রতি মাসে ভাড়া নিলেও কোনো পদক্ষেপ করা হয়নি। কাপড়পট্টির সভাপতি দিলীপ মোদক বলেন, আমরা বারংবার জানিয়েছিলাম প্রশাসনের কাছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা হয়নি। সকালে দোকান খোলা হলেও আবর্জনাও সংগ্রহ করা হয় দুপুরে।
এই বাজারের মতোই অবস্থা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুরাতন বাজারের। বড়ো-ছোটো মিলিয়ে ৩৫০-এর বেশি দোকান আছে। কিন্তু কোনো দোকানে অগ্নিনির্বাপক মেশিন নেই। এমনকী, বাজারে যাওয়ার রাস্তাও খারাপ। এবড়ো-খেবড়ো অবস্থা। বাজারে যত্রতত্র পড়ে থাকে আবর্জনা। ব্যবসায়ীরা বলেন, নেই কোনো নজরদারি। বড় বিপদ ঘটলে ক্ষতি হবে অনেক।