


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে প্রতীক উর রহমানের অধ্যায় শেষ হল। শনিবার বিকেলে সিপিএমের প্রাক্তন নেতা প্রতীক উর রহমান যখন আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিচ্ছেন, সেই সময় আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম তাঁকে বহিষ্কারের ঘোষণা করে দিলেন। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের অদূরে এসএফআই-ডিওয়াইএফয়ের রাজ্য দপ্তর। সেই কার্যালয়ে প্রতীক উরের নামে বরাদ্দ লকার থেকে তাঁর নামের লেবেল ততক্ষণে তুলে ফেলা হয়েছে। তবে দিনভর বাম নেতা থেকে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চলেছে প্রতীক-চর্চাই। কিছুটা ঘৃণা, কিছুটা অবাক হওয়া আর অনেকটা খারাপ লাগা নিয়ে ‘প্রতীকহীন’ সিপিএম ভোটের আগে চাপে পড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু বিতর্ক কি একেবারে গেল? সিপিএমের বিবৃতিতে ‘বহিস্কার’, ‘তত্ক্ষনাত্’ বানান ও বাক্যগঠনে ভুল থাকায়, তা নিয়েই চলল বাম-বিরোধীদের টিপ্পনি।
এদিন ভাষা দিবস উপলক্ষ্যে কনসার্টের আয়োজন করেছিল এসএফআই। কার্যালয়ের উঠোন সাজানোর কাজ চলছিল দুপুর থেকে। এসেছিলেন আর এক তরুণ নেত্রী দীপ্সিতা ধর। রাজ্য সভাপতি পদ থেকে চলে যাওয়ার পরেও প্রতীক উর এই অফিসে মাঝেমধ্যেই আসতেন। সৃজন ভট্টাচার্যের নাম লেখা লকারের পাশেই প্রতীক উরের নামে একটি লকার ছিল। সেই নামের লেবেল তুলে ফেলা হয়। এসএফআইয়ের বর্তমান রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে বলেন, ‘আত্মত্যাগ বনাম আত্মসমর্পণের লড়াইয়ে চিরকাল আত্মত্যাগ জিতেছে।’ এসব চর্চার মাঝেই সিপিএম রাজ্য কমিটির তরফে প্রতীক উরকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘রাজ্য কমিটি থেকে সম্পাদকমণ্ডলীকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পার্টির মধ্যে বিশৃঙ্খলা ও শত্রু শিবিরে যোগ দিলে তত্ক্ষণাত্ বহিষ্কার করতে হয়। উনি শুধু মহম্মদ সেলিম নয়, সিপিএমের লক্ষ লক্ষ সদস্য-সমর্থককে অপমান করলেন।’ সিপিএম রাজ্য কমিটির তরফে একটি প্রেস বিবৃতিও দেওয়া হয়। সেখানেও পার্টি বিরোধী কার্যকলাপ ও শত্রু শিবিরে যোগ দেওয়ার অপরাধের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু সেই বিবৃতিতে বানান ভুল নিয়ে যথারীতি কটাক্ষ ধেয়ে এসেছে তৃণমূল সহ বিরোধীদের দিক থেকে।