


সুজিত ভৌমিক, কলকাতা: কনফারেন্স কলে চলছিল তোলাবাজি! তাও আবার জেলে বসে! কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলে বসে টাকা চেয়ে হমকি দিচ্ছিল সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রাজা গোস্বামীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নিল জোড়াসাঁকো থানা।
উল্লেখ্য, একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি জেলে বসেই ফোনে বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। এরজন্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট বন্দিকে বাড়ির দুটি মোবাইল নম্বর জেল কর্তৃপক্ষকে আগাম জমা দিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে ফোনে কথা বলতে দেওয়া হয় বন্দিকে। এই ফোনে কথা বলার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তোলাবাজির কারবার চলছিল প্রেসিডেন্সি জেলে। প্রাথমিক তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশের টিম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক কর্তা জানাচ্ছেন, সরাসরি অন্য মোবাইল নম্বরে ফোন করে তোলা চাইলে ধরা পড়ার সম্ভবনা রয়েছে। তাই প্রথমে বাড়িতে স্ত্রীকে ফোন করে, কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এই তোলাবাজির কারবার চালাচ্ছিল রাজা। ঘটনায় প্রেসিডেন্সি জেলের কারারক্ষীদের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। কারণ, জেল থেকে একজন বন্দি আগাম জমা করা নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে ফোন করছে কি না, বা ফোনে ঠিক কী কথা হচ্ছে তাতে নজরদারি চালানোর কথা। এক্ষেত্রে তা হয়নি বলেই জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানাচ্ছে, জোড়াসাঁকো থানার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের বাসিন্দা সিদ্ধান্ত দাস বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস মামলায় ১০ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে এখন প্রেসিডেন্সি জেলে রয়েছে। ১৮ আগস্ট অচেনা মোবাইল নম্বর থেকে ফোন আসে সিদ্ধান্তের বাবা অভিজিৎ দাসের মোবাইলে। ফোনে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ১০ হাজার টাকা জেলে পাঠাতে হবে। টাকা না পেলে তাঁর ছেলেকে জেলে মারধর করা হবে। হুমকি ফোন পাওয়ার পরই স্থানীয় জোড়াসাঁকো থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন অভিজিৎবাবু। তদন্তে নেমে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ ২০ আগস্ট দমদম যশোর রোডের শ্রীদুর্গা কলোনি থেকে রাজার স্ত্রীকে প্রথমে গ্রেপ্তার করেন। পাশাপাশি, তোলাবাজির জন্য কনফারেন্স কলে ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনটি উদ্ধার করে।
পাশাপাশি তদন্তে জোড়াসাঁকো থানার টিম ওই স্মার্ট ফোন থেকে হওয়া কনফারেন্স কলের সূত্র ধরে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি একটি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি রাজা গোস্বামীর যোগ পায়। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে ৩১ আগস্ট রাজাকে গ্রেপ্তার করে হেপাজতে নেয় জোড়াসাঁকো থানার পুলিশ। ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেপাজতে থাকবে সে।