


অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কলকাতা সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বাড়ছে আরএসএস এবং শাসক দলের। এবার আশুতোষ ভবনের একতলায় অবস্থিত সেলস কাউন্টারের একাংশে খুলতে চলেছে আরএসএসের শাখা সংগঠন বিএমএস অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সংঘের অফিস! ইতিমধ্যেই ভাঙা পড়েছে সেলস কাউন্টারের একটি অস্থায়ী দেওয়াল। তবে, দিনভর তরজার পর ঢোঁক গিলছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সংগঠনটিকে আপাতত ঘর দেওয়ার কথা মানতে চাইছে না তারা।
কর্মচারী সংঘের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের আহ্বায়ক সুবল শীল অবশ্য ঘর পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। তিনি জানান, ‘সংগঠনের অনেকেই চাইছিলেন ফার্নিশড অফিস হোক। আমি বলেছি, বেশি জাঁকজমকের দরকার নেই। ওখানে অফিসে পেলেই চলবে। সেটা আমরা পাচ্ছি।’ বুধবার তিনি উপাচার্য আশুতোষ ঘোষের ঘরে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। স্বয়ং উপাচার্যও জায়গাটি ঘুরে আসেন। তবে, আশুতোষবাবুকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘কোনও সংগঠনকেই ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়নি। সেলস কাউন্টার ভাঙা হচ্ছে না। ওখানে কবে থেকে একটি অস্থায়ী দেওয়াল তোলা ছিল, আমার জানা নেই। ভঙ্গুর দেওয়ালটি ভাঙা হয়েছে মাত্র। না হলে বিপদ হত।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে অভিযোগ, সিন্ডিকেটে বিষয়টি পাশ না করিয়েই ঘর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সংগঠনটিকে একাধিক চিঠি দিয়েছেন রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস। তাছাড়া, সংগঠনটির রাজ্য শাখা রেজিস্টার্ড হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিটটির রেজিস্ট্রেশন নেই। সেই অর্থে শাখাটিকে পৃথক সমিতি হিসাবে এখনও স্বীকৃতি দেয়নি রাজ্য সংগঠনটিই। অথচ, তাদের ঘর দেওয়ার জন্য দেওয়াল ভাঙা হয়ে গেল! এ নিয়ে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আপাতত কাউকে ঘর দেওয়া হচ্ছে না। কারণ তারা বড়ো ঘর চেয়েছিল। আমরা সেটা মানতে পারছি না। তাছাড়া স্পেস কমিটির সিদ্ধান্তেই এই ঘর দেওয়া যায়। সেটা হয়েছে। সিন্ডিকেটে পাশ করার দরকার হয় না। তাছাড়া দেওয়ালটি ভাঙা হয়েছে সতর্কতার জন্য।’ রেজিস্ট্রারের চিঠিতেই অবশ্য দেখা যাচ্ছে, দু’টি ‘রাষ্ট্রবাদী’ সংগঠনকে সেখানে ইউনিয়ন রুম বরাদ্দ করা হয়েছে। আর জায়গা বাড়ানোর জন্য এই দেওয়ালটি ভাঙার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
সূত্রের খবর, একসময় একই জায়গায় ঘর চেয়েছিল তৃণমূলের অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। তারপর নিজেদের কোন্দলেই সেই দাবি থেকে তারা সরে আসে। দেওয়ালটি সম্ভবত সেই সময়েই তোলা। সেটি ভেঙে একটি অ্যালুমিনিয়াম এবং বোর্ডের অস্থায়ী পার্টিশন বসানোর সিদ্ধান্ত হয়। সেখানেই সেলস কাউন্টার এবং দু’টি সংগঠনকে ঘর দেওয়ার তোড়জোড় চলছিল। শোরগোল পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার কাজ শুরু করতেই। এরপর একতরফা দু’টি সংগঠন, বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশনবিহীন সংগঠনকে ঘর দেওয়া নিয়েও উঠল প্রশ্ন।