


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দু’হাতে ক্রাচ। মাঠ ছাড়ছেন খুঁড়িয়ে। ওড়িশা ম্যাচের আগে অনুরাগীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছিলেন সাহাল আবদুল সামাদ। কেরালাইট ফুটবলারকে নিয়ে মোহন বাগান টিম ম্যানেজমেন্টও প্রবল চিন্তায়। সূত্রের খবর, প্রায় এক থেকে দেড় মাস সাহালকে পাওয়া যাবে না। উল্লেখ্য, পাঞ্জাব ম্যাচে প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পেয়েছিলেন সাহাল। স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তিনি। যা পরিস্থিতি, ২৯ নভেম্বরের ডার্বিতে তাঁর খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই। তাড়াহুড়ো করলে বাকি মরশুমে মাঠে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক উইন্ডোর জন্য আপাতত আইএসএল বন্ধ থাকবে। ২২ নভেম্বর গোয়ায় মোহন বাগানের প্রতিপক্ষ চার্চিল ব্রাদার্স। তাই ফুটবলারদের কয়েকদিন ছুটি দিয়েছেন সবুজ-মেরুন কোচ। ১৩ নভেম্বর ফের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। বিশ্রাম থেকে ফিরে এসে রিহ্যাব শুরু করবেন সাহাল। একে ব্রাজিলিয়ান প্লে-মেকার মিগুয়েলের হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড ওয়ান টিয়ার। তার উপর চোটের কবলে সাহাল। তাই ম্যাচ জিতলেও পানোসের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
চলতি মরশুমের শুরু থেকেই দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন সাহাল। ডুরান্ড কাপ ফাইনালে তাঁকে প্রথম এগারোয় রাখেননি গ্রিক কোচ। তা নিয়ে এখনও আপশোস করেন সমর্থকরা। তবে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে ডার্বি জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। সাহালের পাস ধরেই জয়সূচক গোলটি করেন জেলকোভিচ। প্রতি ম্যাচেই নজর টানছেন সাহাল। তাই কেরালাইট ফুটবলারের চোট থিঙ্কট্যাঙ্কের কাছেও বড়ো ধাক্কা। মোহন বাগান মাঝমাঠে এমনিতেই ফিডারের অভাব। সামনের দিকে পাস খেলার লোক কম। জেলকোভিচ বা দীপক টাংরি ডিফেন্সিভ ব্লকার, প্লে-মেকার নন। কিন্তু ওই জায়গায় কোচের হাতে বিকল্প নেই। মিগুয়েল বা সাহালের অনুপস্থিতিতে ঘাটতি বাকিদেরই মেটাতে হবে। তবে শক্তিশালী আপফ্রন্ট পানোস ব্রিগেডের সম্পদ। ছাংতে, আরউইন, ড্র্যাজিচরা ম্যাচের রং বদলাতে সক্ষম। উইং থেকে ঝড় তুলে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বাড়াচ্ছে মোহন বাগান। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝমাঠে আরও বাঁধুনি চাই। অন্যথায় চাপে পড়বে রক্ষণ। খেলা নিয়ন্ত্রণ করার লোক প্রয়োজন। সেই কারণেই সাহাল বা মিগুয়েলের দ্রুত ফিট হওয়া দরকার। পাশাপাশি, আপুইয়াকে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে নামাতে মরিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও শরীর বেশ দুর্বল। মিজো ফুটবলারের ম্যাচ ফিট হতে সময় লাগবে।