


সংবাদদাতা, খড়্গপুর: পালাবদলের পর জেলায় প্রাথমিকের দ্বিতীয় পার্বিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্র তৈরিতে অন্য সব শিক্ষক সংগঠনকে ছাপিয়ে গেল আরএসএসের শিক্ষক সংগঠন। প্রশ্নপত্র তৈরিতে সঙ্ঘের শিক্ষক সংগঠন এবিআরএসএম(অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ)-কে অবশ্য জোর টক্কর দিয়েছে বাম শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ (নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি)। তুলনায় অনেক পিছিয়ে বিজেপি টিচার্স সেল। শুধু তাই নয়, প্রথমবার প্রশ্ন তৈরি করতে গিয়ে এবার বড়োসড়ো গণ্ডগোলও করে বসেছে তারা। প্রশ্নপত্রের উপরে ‘প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ’ লিখে ছাপিয়ে দেওয়া হয়। পরে অবশ্য লিখিত বিবৃতি দিয়ে ভুল-স্বীকারও করা হয় বিজেপি টিচার্স সেলের তরফে।
প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র তৈরি করে না পর্ষদ। প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষমতা বা স্বাধীনতা স্কুলগুলির উপরই ছাড়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদও এতে হস্তক্ষেপ করে না। তবে, সেই বাম আমল থেকে শিক্ষক সংগঠনগুলিই মূলত প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্ব নিজেদের ঘাড়ে নিয়েছে। হাতে গোনা কিছু বড়ো বড়ো স্কুল ছাড়া জেলার বেশিরভাগ স্কুলই শিক্ষক সংগঠনগুলির কাছ থেকে সামান্য অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনে নেয়। গত ১৫ বছরে জেলার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ প্রাইমারি স্কুল তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির তৈরি প্রশ্নেই পরীক্ষা নিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠন প্রায় অস্তিত্ব হারিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এবার তারা প্রশ্নপত্র তৈরির দৌড়ে ছিল না।
দ্বিতীয় পার্বিক মূল্যায়নের জন্য জেলায় এবার প্রায় ১ লক্ষ ৫ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে এবিআরএসএম। এবিপিটিএ প্রায় ৭৫হাজার প্রশ্ন তৈরি করেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের ছাত্রছাত্রীদের জন্য। সেখানে বিজেপি টিচার্স সেল মাত্র ৩২ হাজার ছাত্রছাত্রীর প্রশ্নপত্র তৈরি করেছে।
এবিআরএসএমের রাজ্য কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দাস বলেন, জেলায় মোট ৫১টি চক্র (সার্কেল) রয়েছে। এরমধ্যে ৪৫টি চক্রের ২১০০ স্কুল আমাদের কাছ থেকে প্রশ্ন নিয়েছে। জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, প্রশ্নপত্র ছাপানোর জন্য যে নূন্যতম খরচ, আমরা সেটাই নিয়েছি। শিক্ষকরা খুব খুশি। এবিপিটিএর তরফে যাদব পাত্র ও সৌমেন বিদ বলেন, অন্যান্য বারের থেকে এবার আমাদের প্রায় ১৪ হাজার বেশি প্রশ্ন ছাপাতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮৭ হাজার প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলাম আমরা। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও হাওড়ার বেশকিছু স্কুলেও প্রশ্ন গিয়েছে। বিজেপি টিচার্স সেলের ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক নিমাই শাসমল বলেন, এবারই প্রথম প্রশ্নপত্র তৈরি করেছি আমরা। ৩২ হাজার ছাত্রছাত্রীর জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করেছিলাম আমরা।
• ছবি এআই সৌজন্যে