


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডায়মন্ডহারবারের তৃণমূল এমপি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যয়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির মাধ্যমে বড়োসড়ো অপরাধ সংগঠিত হয়েছিল। শনিবার বিধানসভায় এহেন ‘ডায়মন্ড মডেল’ নিয়ে বিবৃতি দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, ‘এই কর্মসূচি নিয়ে একটা বড়ো দুর্নীতি সামনে এসেছে। চিটিংবাজ ভাইপোর এই প্রকল্পের পরিষেবা নিয়ে কারও অঙ্গহানি হয়েছে। কেউ চিরকালের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।’ এই কারণে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে খুনের মামলা হওয়া উচিত বলেও মনে করেন মুখ্যমন্ত্রী। আরও জানান, এনিয়ে বিষ্ণুপুর থানায় একাধিক এফআইআর হয়েছে। ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। সরকারি চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের পড়ুয়াদের জোর করে নিয়ে ওই শিবিরে যেতে বাধ্য করা হত বলেও দাবি করেন তিনি। এই ঘটনায় সিআইডি, এসটিএফ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ ও মেডিকেল কাউন্সিল একযোগে তদন্ত করছে। শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, কাউকে ছাড়া হবে না।’ মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘একবার ঢুকলে আর বেরবে না।’
অন্যদিকে, ‘সেবাশ্রয়’ চলাকালীন কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ অনেক মানুষ ডায়মন্ডহারবারে দিনের পর দিন থাকতেন। বিষ্ণুপুরের এক রিসর্টে তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হতে। ওই রিসর্ট মালিকের অভিযোগ, এসব খরচ বাবদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি ৩২ লক্ষ টাকা পাবেন। কিন্তু রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে না পেরে এতদিন সেই টাকা তিনি আদায় করতে পারেননি। শুক্রবার বিষ্ণুপুর থানায় এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই রিসর্ট মালিক।