


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: যাদবপুর, প্রেসিডেন্সির পর এবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএফআই বনাম এবিভিপি। মঙ্গলবার বিকালের দিকে ক্যাম্পাসে দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা মুখোমুখি হয়ে যান। তাঁদের মধ্যে প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক স্লোগান যুদ্ধ চলে। দ্বারভাঙা বিল্ডিংয়ের করিডরে দু’পক্ষকে দু’দিকে সরিয়ে মাঝখানে দাঁড়ায় পুলিশ। তারপরেই চলতে থাকে স্লোগান যুদ্ধ।
দুপুরের দিকে কলেজ স্ট্রিটে এসএফআইয়ের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কমিটির ৩২তম সম্মেলন উপলক্ষ্যে প্রকাশ্য সমাবেশ ছিল। এসএফআই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক অমিতকুমার ঘোষ বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্য সমাবেশ শেষে ক্যাম্পাসে একটি মিছিল করতে চাই। সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গেট বন্ধ করে দেন। ভিতরে পুলিশের তত্ত্বাবধানে তখন এবিভিপির মিছিল চলছিল। তাঁদের বেশিরভাগ বহিরাগত। আমরা ভিতরে ঢুকলে ওরা আমাদের উপর চড়াও হয়। পুলিশ তখন সামাল দিচ্ছিল। তারপর থেকে ওই বহিরাগতরা দ্বারভাঙা বিল্ডিংয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে। আমরাও পাল্টা স্লোগান দিই।’ প্রায় দু’ঘণ্টা এই স্লোগানিং চলতে থাকে।
আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি পাল্টা বিবৃতি দিয়ে বলেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বহিরাগত নকশালীদের আঁতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। যে ঘটনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে, তা এসএফআই ও বামপন্থী নকশাল ছাত্র সংগঠনের কাজ। গত দু’মাসে প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার পর চক্রান্ত করে দেশবিরোধী মানসিকতাকে স্থাপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তা এবিভিপি গণতান্ত্রিক ভাবে প্রতিহত করবে। অন্যদিকে, ছাত্র সংঘর্ষে রক্তাক্ত হল বারাসতের ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে ঢুকে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এবিভিপির বিরুদ্ধে। পাল্টা এবিভিপির অভিযোগ, তাদের দুই ছাত্রকে ব্লেড দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। জখম অভিষেক পাল ও অরূপ বিশ্বাসকে বারাসত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠকের দাবি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র অরূপ বিশ্বাসকে কথা বলার নাম করে টিএমসিপির আলতাব মারধর করেন। খবর ছড়াতেই এবিভিপির ছাত্রেরা হস্টেলে গেলে দু’পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। টিএমসিপির গিয়াস আলি, রহমত মণ্ডলদের দাবি, তারা সাধারণ ছাত্র। এবিভিপির কর্মীরাই হস্টেলে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। ১০-১২ জন ছাত্র জখম হয়েছেন। দু’পক্ষই পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। ঘটনার পর দত্তপুকুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নিজস্ব চিত্র