


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে রাজ্যে বিতর্ক চলছেই। রাজ্য সরকার স্মার্ট মিটার বসানোর বিষয়ে অনড়। এদিকে গ্রাহক সংগঠন থেকে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ও আন্দালনের কর্মসূচি নিয়েছে। এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ২০২৭ সালের নভেম্বরের মধ্যে রাজ্যে ৪০ লক্ষ ৩৫ হাজার স্মার্ট মিটার বসানো হবে। কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরকে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার।
সোমবার সংসদে কেন্দ্রের বিদ্যুৎমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীপাদ নাইক জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ১০ লক্ষের বেশি স্মার্ট মিটার বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ও বাণিজ্যিক গ্রাহক মিলিয়ে মোট সংখ্যা ২ কোটি ৭ লক্ষের কিছু বেশি। বাদবাকি স্মার্ট মিটার বসবে ট্রান্সফর্মার এবং ফিডারে। ২ কোটি ১০ লক্ষ স্মার্ট মিটারের মধ্যে প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত সবকিছু প্রস্তুত হয়ে রয়েছে ৪০ লক্ষ ৩৫ হাজার ক্ষেত্রে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তা বসানোর কাজ শেষ হয়েছে সাত লক্ষের কিছু বেশি ক্ষেত্রে। অর্থাৎ মোট স্মার্ট মিটার বসানোর অনুমোদনের নিরিখে সাফল্য মাত্র ৩.৩৪ শতাংশ।
রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মে মাসে যখন মনোহরলাল খট্টর পশ্চিমবঙ্গে আসেন, তখন তাঁকে রাজ্য সরকারের তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যে কয়টি স্মার্ট মিটার বসানোর ব্যাপারে সবকিছু তৈরি হয়ে রয়েছে (অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে) সেগুলি সরকার আগামী বছর নভেম্বরের মধ্যে বসিয়ে ফেলবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, এরাজ্যে স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য ওয়ার্ল্ড ব্যাংক থেকে অর্থ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই টাকায় বিধাননগরে প্রায় ২ লক্ষ ৮৯ হাজার এবং হুগলিতে ১ লক্ষ ৯২ হাজার স্মার্ট মিটার বসানোর সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যায়নি। বিধাননগর এলাকায় মাত্র ১৪.৬৯ শতাংশ এবং হুগলিতে মাত্র ১৮.৪১ শতাংশ স্মার্ট মিটার বসানো হয়েছে বিশ্ব ব্যাংকের টাকায়।