


গবাদি পশুর মতো পাখিও জাবর কাটে! সত্যিই এমন পাখি দেখা যায় দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে। বিস্ময়কর সেই পাখি চেনালেন রমলা মুখোপাধ্যায়।
গোরু জাবর কাটে আমরা সবাই জানি। কিন্তু পাখিও জাবর কাটে তাই আবার হয় নাকি! ছোট্ট বন্ধুরা, শুনে নিশ্চয়ই বিশ্বাস হচ্ছে না? আমারও হয়নি। কিন্তু যখন হোয়াটজিন পাখির কথা বিশদে জানলাম, তখন আর বিশ্বাস না করে পারলাম না। চল, আজ আমরা এই বিশেষ পাখির সম্বন্ধে কিছু কথা জেনে নিই।
হোয়াটজিন পাখির বাস দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের আমাজন ও অরিনোকো অববাহিকার জলাভূমিতে। এটি এক অদ্ভুত ধরনের রোমন্থক বা জাবর কাটা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পাখি। এর ডানাগুলি আঁশযুক্ত। গায়ে দুর্গন্ধ। এই জন্যই একে ‘স্টিঙ্কবার্ড’ বা পচা গন্ধের পাখিও বলা হয়। এই পাখিটি দেখতে অনেকটা তিতির পাখির মতো। তবে, হোয়াটজিন দেখতে অনেক বেশি সুন্দর। এদের দৈর্ঘ্য মোটামুটি ৬৫ সেন্টিমিটার মতো হয়। এরা পাতা খেয়ে বেঁচে থাকে। আর এই পাতা হজমের জন্য এদের গলায় রোমন্থক প্রাণীদের (যেমন গোরু) মতো বিশেষ ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়া কাজ করে। ফলে শরীর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হয়। এরাই একমাত্র পাখি যারা ‘ফোরগাট ফারমেন্টেশন’ বা গবাদি পশুদের পদ্ধতিতে পাতা হজম করে। এই স্বতন্ত্র পরিপাকতন্ত্রের জন্য অন্যান্য পাখিদের থেকে এরা একদমই আলাদা। অদ্ভুতও বটে। হোয়াটজিনের মাথা ছোটো, কিন্তু লম্বা ঘাড় এবং গায়ে বাদামি-সবুজ রঙের পালক। আর চোখের রং লাল। এদের নীল মুখ পালকহীন এবং মাথার উপরে একটি কাঁটার মতো লালচে ঝুঁটি থাকে। লম্বা, কালচে-বাদামি লেজটি তামাটে-সবুজ রঙের এবং এর শেষে একটি চওড়া সাদাটে বা হালকা বাদামি রঙের ব্যান্ড থাকে। এরা বিভিন্ন ডাক অত্যন্ত কর্কশ। এরা কখনো গোঙানির মতো শব্দ করে। আবার কখনো ঘ্যাঁ ঘ্যাঁ, হিসহিস বা গরগর ইত্যাদি শব্দও করে। এই ডাকগুলি শরীরের নড়াচড়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।
নবজাতক হোয়াটজিন ছানাদের ডানায় দু’টি নখর থাকে, যা তাদের গাছের ডালে আরোহণ করতে সাহায্য করে। ডিম ফুটে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা এই নখর এবং তাদের বড়ো আকারের পা ব্যবহার করে গাছের ডালপালায় হামাগুড়ি দিয়ে বেড়াতে পারে। যখন গ্রেট ব্ল্যাক হকের মতো শিকারি প্রাণী হোয়াটজিনের বাসস্থান আক্রমণ করে, তখন বাবা-মা হোয়াটজিনেরা শিকারির মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো জন্য অদ্ভুত শব্দ করে উড়ে বেড়ায়। আর বাচ্চারা বাসা থেকে সরে গিয়ে ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়ে। তবে, ধরা পড়ার উপক্রম হলে তারা জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পালানোর জন্য জলের নীচে সাঁতার কাটে। বিপন্মুক্ত হয়ে তাদের নখরযুক্ত ডানা ব্যবহার করে বাসায় ফিরে আসে।
হোয়াটজিন সাধারণত জলের ধারের গাছগুলিতে বাসা বাঁধে এবং দলবদ্ধভাবে বাস করে। হোয়াটজিন গায়ানার জাতীয় পাখি। অদ্ভুত শারীরিক গঠন এবং প্রাচীন বিবর্তনের বৈশিষ্ট্যের জন্য অনেক সময় হোয়াটজিনদের ‘বিবর্তনীয় অনাথ’ও বলা হয়ে থাকে। সত্যিই কতই আশ্চর্য ও অদ্ভুত সব জীব পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার কোনো
ইয়ত্তা নেই।
নোটিস বোর্ড
ছোট্ট বন্ধুরা, কেমন আছ সবাই? তোমরা যারা ‘আমাদের অ্যালবাম’ বিভাগে নিজেদের আঁকা পাঠাতে চাইছ, তারা ই-মেল কর এই ঠিকানায়— [email protected] আঁকা ছবির সঙ্গে নিজের নাম, স্কুলের নাম আর ক্লাস লিখতে ভুলো না যেন।
ফোন নম্বর: ২২৫১ ৩২৯২/৯৩