


সংবাদদাতা, বোলপুর: ফের পড়ুয়াদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ। গত কয়েকদিনে শান্তিনিকেতন ও শ্রীনিকেতনের একাধিক ভবনে পড়ুয়াদের সঙ্গে তাঁর সরাসরি বৈঠক হয়েছে। সেখানেই বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। নির্দিষ্ট সময়েও অনেক সময় ক্লাস হয় না। এই অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এবার প্রতি সেমেস্টারে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করবেন পড়ুয়ারা। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, নির্দিষ্ট গুগল ফর্ম দেওয়া হবে। তার মাধ্যমে পড়ুয়াদের কাছ থেকে মূল্যায়ন নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে কনফারেন্স হলে সাংবাদিক বৈঠক করেন উপাচার্য। সেখানেই তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশ মেনে পড়ুয়াদের মতামত নেওয়ার ব্যবস্থা ফের চালু হয়েছে।প্রতিটি সেমেস্টারের শেষ সপ্তাহে একটি গুগল ফর্মেরনির্দিষ্ট প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মতামত জানাতে পারবেন পড়ুয়ারা। সেখানে নাম লেখার কোনও ব্যবস্থা থাকবে না। ফলে কোনও শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে পড়ুয়াদের উপর তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকবে না।পড়ুয়াদের দেওয়া মতামত খতিয়ে দেখতে একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। বিশ্বভারতীতে এই ব্যবস্থা আগে চালু ছিল। পরে তা বন্ধ হয়ে যায়। উপাচার্যের উদ্যোগে ফের সেই ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত বিভাগ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পাঠভবন ও শিক্ষাসত্র স্কুল নিয়েও অভিযোগ এসেছে। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন না। এমনকি ক্লাসে গিয়েও পড়ানোর পরিবর্তে বসে থাকার অভিযোগ উঠেছে। এরপরেই শিক্ষকদের ক্লাস নেওয়ার বিষয়টি নজরদারিতে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় এক মাস আগে এ নিয়ে একটি নীতি চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশ মেনেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিটি শিক্ষকের সাপ্তাহিক কাজের হিসাব রাখা হচ্ছে। কতগুলি ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল। বাস্তবে কতগুলি ক্লাস নেওয়া হয়েছে। তা দেখা হচ্ছে। শিক্ষকেরা তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছেন কি না, তাতেও নজর রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, একজন শিক্ষককে সপ্তাহে মোট ৪০ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে যুক্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা পড়ানোর জন্য এবং তিন ঘণ্টা গবেষণা, ল্যাবরেটরি , গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক কাজের জন্য বরাদ্দ থাকে। পড়ুয়াদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে ক্লাসে অনিয়ম নিয়ে শিক্ষকদের উপর নজরদারি আরও বাড়তে চলেছে।