


নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: আবারও শহরে পানীয় জল সরবরাহের মোটরের তার চুরি। পাম্প হাউসের দরজা ভেঙে বুধবার রাতে চুরি হয়েছে। তাই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কার্যত নির্জলা থাকল কোচবিহার শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ড। বারবার কেন চুরি হচ্ছে, প্রশ্ন তুলেছেন পুরবাসী। বিষয়টি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন পুরসভার আধিকারিকরা। কোচবিহার পুরসভার প্রশাসক তথা সদর মহকুমা শাসক গোবিন্দ নন্দী কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
প্রতিটি ওয়ার্ডে বসানো সাব মার্সিবল পাম্প থেকে দিনে তিনবার জল ছাড়া হয়। মাটির নীচ থেকে তোলা জল সরাসরি পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পুরসভা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোর ৬টায়, বেলা ১২টায় ও বিকেল ৩টের সময় জল ছাড়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে পাম্প অপারেটর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পানীয় জলের সাব মার্সিবল পাম্পটি চালাতে গিয়ে দেখেন পাম্প হাউসের দরজা খোলা। এগিয়ে গিয়ে দেখেন দরজার তালা ভাঙা। ভিতরে ঢুকতেই তাঁর চোখে পড়ে মোটরের সঙ্গে যুক্ত একাধিক তার কেটে নেওয়া হয়েছে।
কোচবিহার শহরজুড়ে পানীয় জলের মেশিনের তামার তার চুরির ঘটনা আকছাড়ই হচ্ছে। পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, এর আগে ১৪টি চুরির ঘটনা নিয়ে কোতোয়ালি থানার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু, কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
এদিকে, পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকদের একাংশ সর্ষের মধ্যে ভূত থাকার তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সন্দেহভাজন অনেককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়েছে বলে থানার এক অফিসার জানিয়েছেন। এদিকে, পুরসভার অন্দরে কান পাতলে অনেক কথাই শোনা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুর আধিকারিক জানান, তারগুলি এমনভাবে কেটে নেওয়া হচ্ছে যা দেখে এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্যেই কাটা হচ্ছে না। যারা এই কাজটা করছে তাদের মূল উদ্দেশ্য হল পুরসভাকে বিপাকে ফেলা।
এদিন সকাল থেকে পাম্প না চলায় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জলের ব্যাপক সমস্যা দেখা দেয়। অধিকাংশ বাড়িই পুরসভার নলবাহিত জলের উপর নির্ভরশীল। পরিস্থিতি অনুধাবন করে পুরসভা ওয়ার্ডে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠায়। তাছাড়া তোর্সার পরিস্রুত জল দিয়েও সমস্যা মেটানোর চেষ্টা চালানো হয়। যদিও এতে সমস্যা যে খুব একটা লাঘব হয়েছে, তা নয় বলেই জানান ওয়ার্ডবাসী। • নিজস্ব চিত্র।