


নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: রাজ্যের প্রায় ২৪ লক্ষ চিহ্নিত রেশন গ্রাহকের তালিকা রাজ্যকে আগেই পাঠিয়েছে কেন্দ্র। জাতীয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত গ্রাহকদের সম্পর্কে তদন্ত করে তাঁদের কার্ড বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্যকে নিতে হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়ার অগ্রগতিতে সন্তুষ্ট নয় নয়াদিল্লি। রাজ্যের রেশনব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি কলকাতায় আসেন কেন্দ্রীয় খাদ্যসচিব সঞ্জীব চোপড়া। রাজ্য খাদ্যদপ্তরের অফিসারদের সঙ্গে বৈঠকে কার্ড বাতিলের কাজটি দ্রুত করার নির্দেশ দেন তিনি। প্রথম পর্যায়ের তালিকায় ছিল ১৭ লক্ষ ৭৪ হাজার নাম। তার মধ্যে মাত্র ৫ লক্ষ বা ২৮ শতাংশের তদন্ত শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৬ লক্ষ ১২ হাজার নাম ছিল। পুরো তদন্ত শীঘ্রই শেষ করতে বলা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ের তালিকা পাঠানো হয় তৃণমূল জমানায়। তদন্তের পর তখনই প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ কার্ড বাতিল করা হয়। তারপর ভোটের ডামাডোলে কাজটি গতি হারায়। নতুন বিজেপি সরকার ফের তৎপর হয়েছে। পর্যালোচনা বৈঠকে এই কাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছে খাদ্যভবন। সম্প্রতি রাজ্যে বেশকিছু কার্ড ‘ব্লক’ করে দেওয়া হয়। এই গ্রাহকদের একটি বড়ো অংশ জাতীয় প্রকল্পের আওতাভুক্ত। খাদ্যদপ্তরের খবর, রেশনে খাদ্যবণ্টন বন্ধ হতেই ওই গ্রাহকরা হইচই শুরু করেন। অমনি উপর মহলের পুনঃনির্দেশে বহু কার্ড ফের চালু হয়। অযোগ্য বা চিহ্নিত কার্ড বন্ধ করা নিয়ে কেন্দ্র ফের চাপ দেওয়ায় রাজ্য সরকার পড়েছে ধন্দে। করণীয় কী, ভেবে চলেছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল। খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া একাধিকবার বলেছেন, আর্থিকভাবে সম্পন্ন ব্যক্তি এবং সরকারি কর্মীদের বিনামূল্যে রেশন পাওয়ার কথা নয়। কিন্তু কোন মাপকাঠিতে কার্ড বাতিল হবে, তার নীতিগত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার এখনো ঘোষণা করেনি। সম্প্রতি রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা যোজনার গ্রাহকদের উপর সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্যদপ্তর। কিন্তু সেক্ষেত্রেও কার্ড বাতিলের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়নি। আসলে জনপ্রিয়তা হারাবার ভয় পাচ্ছে সরকার। আধার কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার রেশন গ্রাহকদের সম্পর্কে তথ্য নিয়ে অযোগ্যদের চিহ্নিত করেছে। তাঁদের মধ্যে কিছু মৃত ব্যক্তির নাম ছিল। এছাড়া ছিলেন নানাভাবে অযোগ্যরা (আয়কর দাতা, গাড়ির মালিক, কোম্পানি ডিরেক্টর, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী প্রভৃতি)। প্রথম পর্যায়ে সারা দেশে ৬ কোটি চিহ্নিত গ্রাহকের তালিকা রাজ্যগুলিকে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র মনে করছে, রেশন বণ্টনের নিয়ম-কানুন অনুাযায়ী কার্ডগুলি বাতিল করা জরুরি।