


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক, সংবাদদাতা, হলদিয়া : প্রায় ১৯ থেকে ২০ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। অবশেষে মহিষাদলে ফুটবল খেলতে গিয়ে দিঘির জলে ডুবে যাওয়া বেসরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলছাত্রের দেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল রাত প্রায় ২টা নাগাদ এনডিআরএফের ৩০জনের একটি টিম উদ্ধারকাজে আসে। ফ্লাড লাইট জ্বেলে স্পিডবোট ও ডুবুরির সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয় সারারাত। সেইজেরে রাতভর ঝিলপাড়ে কাতারে কাতারে মানুষের ভিড় জমতে থাকে।
উল্লেখ্য, কাল বৃহস্পতিবার মহিষাদল রাজবাড়ি ময়দানে ফুটবল প্র্যাক্টিস করছিল স্থানীয় বেসরকারি স্কুলের ক্লাস নাইন ও টেনের ছাত্ররা। সঙ্গে ছিলেন তাঁদের স্পোর্টস টিচার। বেলা ১টা নাগাদ প্র্যাক্টিস চলাকালীন বলটি মাঠ লাগোয়া ঝিলে পড়ে যায়। সেই বল কুড়াতে গিয়ে ঝিলে নেমে নিখোঁজ হয় ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র রোহন মাইতি। চণ্ডীপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ওই ছাত্র। ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয়রা জলে নেমে এবং জাল টেনে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেলেই স্পিডবোট নামিয়ে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ, কোস্টগার্ড তল্লাশি চালায়। পাশাপাশি মাঝরাত থেকেই তল্লাশিতে নামে এনডিআরএফ একটি টিম। কিন্তু, নিখোঁজ ছাত্রের খোঁজ পাওয়া যায়নি তখনও। এরপর দিঘির জল পাম্প করে তুলে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। দমকলে খবর দিতেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছন তাঁরা। দুটি পাম্প মেশিন দিয়ে এদিন সকাল থেকে জল তোলার কাজ শুরু হয়। অবশেষে দিঘির মাঝখানে সকাল প্রায় ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ রোহনের দেহ ভেসে ওঠে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এই ঘটনার খবর পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রোহনের মা। শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা পরিবারে। এই ঘটনার খোঁজ খবর নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।