


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ব্যাংক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি, লোন টু ডিপোজিট (এলডিআর) অনুপাত। অর্থাৎ একটি ব্যাংকের ঋণ প্রদানের মাত্রার সঙ্গে আমানতের ভারসাম্য অনুপাত। কিন্তু এই অনুপাতের মানদণ্ড স্থির না থাকায় সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। ঋণ দেওয়ার পরিমাণ বাড়ছে, যা ব্যাংকের স্বাস্থ্যের জন্য সুসংবাদ, পক্ষান্তরে টাকা জমা হওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। এর মধ্যেই চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে বার্নস্টাইন আর্থিক সমীক্ষক সংস্থার রিপোর্ট। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ১০ বছরের সর্বোচ্চ হয়েছে এই ফারাক, যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, গত জুলাই পর্যন্ত সময়সীমায় ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে লোন দেওয়ার হার, যা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। অথচ ডিপোজিটের হার বৃদ্ধি ১০ বছরের মধ্যে সবথেকে কম। এই পরিসংখ্যান উদ্বেগে ফেলে দিয়েছে ব্যাংকগুলিকে।
ব্যাংক সাধারণত যত বেশি সম্ভব ঋণ প্রদান করে বাণিজ্য চালায়। জমা টাকাই ঋণ হিসাবে দেয় তারা। তা থেকে প্রাপ্ত সুদ আবার আমানতকারীদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং, টাকা ধার দিয়ে সুদের মুনাফা— সহজ কথায় এটাই হল ব্যাংকের অস্ত্র। কিন্তু ভাণ্ডারে টাকা না থাকলে লোন দেওয়া হবে কীভাবে? অতএব সমানভাবে ডিপোজিট হওয়াও জরুরি। কিন্তু বর্তমানে বেতনভোগীদের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যে-কোনো কারণেই হোক মাসের সংসার খরচ চালানোর জন্য তারা বেতনের প্রায় সিংহভাগই অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে নিচ্ছে। সাধারণত বেতন ব্যাংকে জমা হলে, কিছু টাকা রেখে বাকিটা নিত্যদিনের মাসকাবারি খরচের জন্য তোলা হয়। কিন্তু বিগত এক বছরের বেশি সময় ধরে সেই অতিরিক্ত টাকা জমছে না। উদ্বৃত্ত টাকা মানুষের হাতে থাকছে না। এর মূল কারণ, মূল্যবৃদ্ধির হার বেড়ে যাওয়া। আর সেই কারণেই লোন টু ডিপোজিট রেশিও বেড়ে চলেছে।
যদি এরকম চলতে থাকে, তাহলে ডিপোজিটের অভাবে লোন দেওয়ার টাকায় টান পড়বে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বৈঠক করেছেন সরকারি ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে। তাদের নির্দেশ দিয়েছেন, বাণিজ্য বাড়াতে হলে যুব সমাজের কাছে আরও বেশি করে যেতে হবে। কারণ, আগামী দিনে সমাজের অর্থনীতি থাকবে তাদের হাতে। কিন্তু ব্যাংকে টাকা জমানোর প্রবণতাই যদি কমে যায়, তাহলে সেটা যথেষ্ট বিপজ্জনক বার্তা!