


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তৃণমূল আমলে তারস্বরে মাইক বাজত! রাজনৈতিক পালাবদলের পরে ছবিটা বদলাবে—এমনই আশা করেছিলেন অনেকে। কিন্তু বারাসত শহরে মাইকের দাপট দেখে প্রশ্ন উঠছে, বদল হল কোথায়? বিজেপির ‘তৃণমূলীকরণ’ হবে না বলে বারবার বার্তা দিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শব্দদূষণ রুখতে মাইক বাজানোর ক্ষেত্রে নানা বিধিনিষেধ জারি করেছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। অথচ জেলা সদর বারাসতের ব্যস্ত রাস্তায় সেই পুরানো ছবিই অব্যাহত বলে অভিযোগ নাগরিকদের। চাঁপাডালি মোড় থেকে নওপাড়া, হাটখোলা হয়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারে দিনরাত বাজছে মাইক। কখনও ক্লাবের সামাজিক অনুষ্ঠান, কখনও দলীয় কর্মসূচির প্রচার। অনুষ্ঠানের ১৫ দিন আগে থেকে মাইক লাগিয়ে প্রচার চালানো বারাসতে বহু বছরের রীতি। বছরভর কোনো না কোনো অনুষ্ঠান থাকায় শহরের ব্যস্ত এলাকায় মাইক বাজার বিরাম নেই। সম্প্রতি বারাসতে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক, পরিবহণমন্ত্রীসহ একাধিক নেতানেত্রী যোগ দবেন সেসব অনুষ্ঠানে। তার প্রচারে ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারের একাধিক লাইট পোস্টে বাঁধা হয়েছে বহু মাইক। কয়েক কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে চলছে প্রচার। নওপাড়া ও হাটখোলাতে ক্লাবের সামাজিক অনুষ্ঠানের প্রচারে একইভাবে মাইক বাজছে। অভিযোগ, মাইক বাজানোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডেসিবেল সবসময় মানা হয় না। অথচ এই রাস্তা দিয়ে দিনরাত অসংখ্য গাড়ি চলাচল করে। পথচারীদের ভিড় লেগে থাকে। একটানা মাইকের শব্দে সমস্যায় পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। রাস্তা পার হওয়ার সময় গাড়ির হর্নের শব্দ শুনতে না পেয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।
শহরের বাসিন্দা শুভশ্রী ঘটক বলেন, ‘কলোনি মোড় খুব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। বহু মানুষের যাতায়াত। জাতীয় সড়কে অনবরত গাড়ি চলে। বছরভর কোনো না কোনো অনুষ্ঠানের জন্য মাইক বাজতেই থাকে। শব্দদূষণ হয়। বিষয়টি পুলিশের দেখা উচিত।’ হরিতলার বাসিন্দা সুভাষ দে’র ক্ষোভ, ‘রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে ঠিকই। কিন্তু শহরের মানুষকে অসুবিধায় ফেলে মাইক বাজানোর সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়নি। এটা বন্ধ হওয়া উচিত।’ এনিয়ে বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মাইক বাজানো নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। আমি জেলাশাসকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। তারস্বরে মাইক বাজানো যাবে না। ডেসিবেল মেনে সকালের দিকে তিন ঘণ্টা এবং বিকালে দু’ঘণ্টা মাইক বাজাতে হবে। এটা সবার মেনে চলা উচিত।’