


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরে কোনো বড়ো নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) বৈঠক বাধ্যতামূলক। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাস অর্থাৎ ভোট ঘোষণার সময় থেকে সেই বৈঠক বন্ধ। ফলে অনুমোদন পায়নি কোনো বড়ো নির্মাণকাজ। এতদিন কাজ আটকে থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। প্রায় প্রতিদিন কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ডিজির ঘরে এসে তদবির করছেন বড়ো বড়ো নির্মাণসংস্থার প্রতিনিধিরা, যাতে দ্রুত এমবিসি বৈঠক করানো যায়। সম্প্রতি, শহরের দুই নামকরা নির্মাণসংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তা পুরসভায় এসেছিলেন। তাঁদের বেশ কয়েকটি প্রজেক্ট এমবিসি না হওয়ায় আটকে রয়েছে। এই অবস্থায় এমবিসিতে আবেদনের বহরও বাড়ছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কনস্ট্রাকশন সেক্টর। পুর-কোষাগারেও ধাক্কা আসছে। বিধানসভা ভোটের পর্ব মিটলেই এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পালাবদলের পর পুরবোর্ড ভেঙে যায়। পরবর্তী সময়ে তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের কারণে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়। সেই সূত্রে শহরের বিভিন্ন নির্মীয়মাণ ভবনের ‘সেফটি অডিট’ চলছিল এতদিন। এমবিসি বৈঠক না হওয়ার কারণ হিসাবে এতদিন পুর-কর্তৃপক্ষ এই অডিটকেই ঢাল করছিল বলে অভিযোগ। তবে বর্তমানে সেই জটিলতাও কেটে গিয়েছে। তারপরও পুর কমিশনার এমবিসি বৈঠক নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করছেন না বলে খবর। বৈঠক না হওয়ায় বড়ো বড়োনির্মাণের অনুমোদন দেওয়া যাচ্ছে না। এমবিসির চেয়ারম্যান হিসাবে থাকেন পুর কমিশনার। মূলত সাত কাঠা বা তার বেশি কিংবা ৫০০০ বর্গফুট বা তার বেশি আয়তনের যে কোনো ‘নন-রেসিডেন্সিয়াল’ বিল্ডিংয়ের নকশা অনুমোদনের জন্য এমবিসিতে পাশ করাতে হয়। ‘কমার্শিয়াল’ ক্ষেত্রে সমস্ত ধরনের নির্মাণেই এমবিসি হয়। কমিটি অনুমোদন দিলে তাতে স্বাক্ষর করেন মেয়র। তারপর মেয়র পরিষদের বৈঠকে সিলমোহর পড়ে। কিন্তু গত কয়েক মাস এমবিসির বৈঠকই না হওয়ায় গোটা প্রক্রিয়া থমকে আছে। সূত্রের খবর, প্রায় ৪০০ আবেদন পড়ে রয়েছে পুরসভায়। ফলে অনুমোদন ফি বাবদ পুরসভার আয় অনেকটাই কম হয়েছে।
শহরের এক প্রথম সারির নির্মাণসংস্থার প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বলে বলে ফেড আপ হয়ে যাচ্ছি। পুর কর্তৃপক্ষ শুধু টেকনিক্যাল ইস্যুর কথা বলছেন। জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেই। আমাদের কয়েকশো কোটি টাকা আটকে আছে।’
সূত্রের খবর, সম্প্রতি পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বৈঠকে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব খলিল আহমেদ পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডেকে এমবিসি করার বিষয়ে সদর্থক ভূমিকা নিতে বলেছেন। কিন্তু অভিযোগ, তারপরেও কোনো পদক্ষেপ হয়নি। পুরসভার এক অফিসার বলেন, ‘কমিশনার এমবিসির কমিটি, নিয়ম বদল করতে চাইছেন। উনি থার্ড পার্টির উপর ছাড়তে চাইছেন। কিন্তু তার জন্য তো আইন সংশোধন করাতে হবে। যতদিন আইন বদল না হচ্ছে, ততদিন এভাবে ফাইল পড়ে থাকবে। আর নির্মাণক্ষেত্র বড়োসড়ো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে।’