


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ বিপর্যয় থেকে প্রলয় কাণ্ডের জন্য রাসুয়া-জিরং হয়ে ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের কৈলাস-মানসরোবর যাওয়া বন্ধ। যে ধরনের বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেখানে হয়েছে তাতে ওই পথে ফের কবে যাত্রা কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত। তবে নেপাল থেকে নেপালগঞ্জ-সিমিকোট-হিলসা হয়ে তিব্বতে ঢুকে মানসরোবর যাওয়ার রুট আছে। এই রুটে নেপালের মধ্যে বিমান-হেলিকপ্টারে চেপে তিব্বত সীমান্তে পৌঁছাতে হয় তীর্থযাত্রীদের। তাতে যাত্রা কম সময়ে করা গেলেও খরচ বেশি হয়। গাড়িতে চেপে রাসুয়ার পথে মানসরোবর যাওয়া ভারতীয় পর্যটকদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল। খরচ বেশি হওয়া ছাড়াও পাহাড়ি পথে আবহাওয়াজনিত কারণে হেলিকপ্টার-বিমান চলাচলে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে। কয়েকবছর আগে নেপালের কোডরি সীমান্ত পেরিয়ে তীর্থযাত্রীরা তিব্বতে ঢুকতে পারতেন। কিন্তু ২০১৫ সালে নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও ধসের জন্য সেখানে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় রুটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এবার বিপর্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিব্বতে আটকে যাওয়া ভারতীয় তীর্থযাত্রীসহ আরও অনেককেই আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসাবে ওই পথে নেপালে ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছে চীন সরকার। কিন্তু ওই পথ দিয়ে ফের নিয়মিত তীর্থযাত্রীসহ অন্যদের নিয়মিত যাতায়াত শুরু করার অনুমতি এখনও চীন সরকার দেয়নি। যদিও মানসরোবর নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে যুক্ত নেপালের ট্রাভেল এজেন্সিগুলি সেই চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে।
ভারত সরকারের তত্ত্বাবধানে উত্তরাখণ্ড দিয়ে লিপুলেখ পাস ও সিকিমের নাথুলা পাস পেরিয়ে তীর্থযাত্রীদের কৈলাস-মানসযাত্রায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু লটারির মাধ্যমে সীমিত সংখ্যক তীর্থযাত্রী এর সুযোগ পান। এই যাত্রায় ২০-২২ দিন সময় লাগে। যাত্রাপথ বেশি কষ্টকর। সেখানে নেপাল হয়ে সেখানকার ট্রাভেল এজেন্সিগুলির মাধ্যমে গ্রুপ হিসেবে সহজেই যাওয়া যায়। সংখ্যার কোনো বিধিনিষেধ নেই। সময় কম লাগে। ভারত সরকারের ব্যবস্থাপনায় লিপুলেখ হয়ে গেলে যা খরচ হয়, নেপালের রসুয়া দিয়ে নেপালের এজেন্সির মাধ্যমে গেলে খরচ হয় মোটামুটি একইরকম (জনপ্রতি আড়াই লক্ষ টাকার কিছু বেশি)। নাথুলা বর্ডার দিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ হয়। নেপালগঞ্জ-সিমিকোট হয়ে গেলেও খরচের পরিমাণ ৩ লক্ষ টাকার বেশি। তবে তাতে সময় কিছুটা কম লাগে এবং যাত্রাপথের কষ্টও কম হয়।