


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পালাবদলের পালা এবার ঐতিহ্যের চন্দননগরেও। তাও আবার আরেক ঐতিহ্যকে ঘিরে। চন্দননগরের কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের মাথার উপরে বসানো হল স্থানীয় বিজেপি বিধায়ককে। কার্যত বেনজিরভাবে ৭১ বছরের সংগঠনে ইতিহাসে প্রধান উপদেষ্টা পদ তৈরি করে সেখানে স্থান দেওয়া হল বিধায়ককে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে ওই মুখ্য বদলটি ছাড়া প্রধান প্রধান পদাধিকারীদের অধিকাংশই পুরানো মুখ। গুটিকয় ক্ষেত্রে নয়া মুখ সামনে এসেছে। আসন্ন জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষ্যে নিয়ম মেনে কমিটির পদাধিকারী নির্বাচন পর্ব রবিবার শেষ হয়েছে।
ইতিহাস বলছে, ৭১ বছরের পুরানো কমিটিতে ১৯৯৭ সালে একবার প্রধান উপদেষ্টা পদ তৈরি হয়েছিল। তদানীন্তন কংগ্রেস বিধায়ক কমল মুখোপাধ্যায় ওই পদে বসেছিলেন। অনেকের দাবি, সেবার কমলবাবুকে সম্মানিত করতেই পদ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এবার অবশ্য বিষয়টি সম্মান না কি নির্দেশ, তা স্পষ্ট হয়নি। তবে চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বরের প্রায় ১৮০টি নথিভুক্ত পুজো কমিটির অন্দরে এনিয়ে বিস্তর চর্চা আছে।
নতুন কমিটিতে পুনরায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন নিমাইচন্দ্র দাস। তিনি বলেন, সমস্ত পুজো কমিটির মধ্যে ভোটের মাধ্যমে ৯০ জনের কার্যকরী কমিটি তৈরি হয়েছিল। সেই কমিটির ভোটে রবিবার পদাধিকারী নির্বাচন হয়েছে। পুজো কমিটিগুলির মধ্যে থেকেই একটি পুজো কমিটির সভাপতি তথা চন্দননগরের বিধায়ককে প্রধান উপদেষ্টা করার প্রস্তাব এসেছিল। তা মান্যতা পেয়েছে। সর্বমতের সমন্বয়ে ঐতিহ্যবাহী পুজোকে আরও উদ্ভাসিত করাই আমাদের লক্ষ্য। ফলে, সেই কমিটিকে ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা অর্থহীন। কমিটির সহসভাপতি পদে প্রথমবার বসেছেন চন্দননগর বিধানসভার বিজেপির পরিচিত মুখ প্রবীণ নীলাদ্রিশেখর দাস। তিনি বলেন, কমিটিগুলির তরফেই বিধায়কে প্রধান উপদেষ্টা চাওয়া হয়েছিল। এখানে রাজনীতির কোনও বিষয় নেই। কমিটির প্রথমবারের সহসভাপতি সিপিএমের প্রাক্তন কাউন্সিলার অশোক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, যা কার্যত কখনো হয়নি তা যদি হয়, তবে কৌতূহল হবেই। শাসকের ক্ষমতা অস্বীকার করতে না-পারার নতুন সংস্কৃতি বাংলার পাশাপাশি চন্দননগরেও বিকশিত হচ্ছে। এনিয়ে চন্দননগরের বিজেপি বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়াস করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এদিন নির্বাচন পর্বেও তিনি ছিলেন না।
চন্দননগরের কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসাবেই পরিচিত। ৩৪বছরের বাম ও ১৫বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালেও রাজনৈতিক দখলদারি সেভাবে দেখা যায়নি। অন্তত প্রবীণ পুজো সংগঠকদের একাংশের তেমনই দাবি। তবে কমিটিতে রাজনীতির মানুষজন থাকতেনই। এবারও কংগ্রেসের প্রাক্তন কাউন্সিলার ওমপ্রকাশ চৌধুরী পদাধিকারী হয়েছেন। যদিও প্রায় ২৯ বছর পরে নতুন করে প্রধান উপদেষ্টা পদ তৈরি এবং তাতে স্থানীয় বিধায়ককে বসিয়ে দেওয়াই, গঙ্গাপারের জনপদে আলোড়ন ফেলেছে।