


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিঙ্গুরের জমিহারা কৃষক, ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’তে ক্ষতিগ্রস্তদের রেশনে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য দেওয়ার যে বিশেষ প্যাকেজ তৃণমূল কংগ্রেস সরকার চালু করেছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনটাই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। সেই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্থিকভাবে সম্পন্নদের রেশনে বিনা পয়সায় খাদ্যশস্য পাওয়া বন্ধ হতে পারে। তাঁর কথায়, যেসব গরিব মানুষের রেশনের খাদ্য প্রয়োজন, তাদের পাশে সরকার সবরকমভাবে আছে। কিন্তু সম্পন্ন ব্যক্তিদের কেন তা দেওয়া হবে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এর ফলে প্রকৃত গরিব মানুষই বঞ্চিত হচ্ছে। তবে প্রকৃত প্রাপক চিহ্নিতকরণের জন্য আর্থিক মাপকাঠি কী হবে, সে ব্যাপারে খাদ্যমন্ত্রী কিছু বলেননি। কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো গাইডলাইন নিয়েও তিনি কিছু বলতে চাননি।সোমবার খাদ্যভবনে রাইস মিল মালিকদের সঙ্গে জেলাভিত্তিক বৈঠক শুরু করেছেন অশোকবাবু। সরকারি উদ্যোগে কেনা ধান থেকে যেসব রাইস মিলে চাল উৎপাদন করা হয়, সেই মিল মালিকদের সঙ্গে সরাসরি এবার প্রথম বৈঠক হচ্ছে। মধ্যসত্বভোগী বা ফড়েদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চাষিদের থেকে ধান কিনে ভালো মানের চাল উৎপাদনই সরকারের লক্ষ্য। সেই বার্তাই মন্ত্রী দিয়েছেন।
বিগত সরকারের আমলে বেশ কিছু লোকেদের জন্য অতিরিক্ত খাদ্যশস্যর প্যাকেজ দেওয়া শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাজেট পেশ করার সময় তৎকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, ৫২ লক্ষ মানুষ বিশেষ প্যাকেজে অতিরিক্ত পরিমাণ খাদ্য রেশনে পান। খাদ্যমন্ত্রী অবশ্য এদিন শুধু সিঙ্গুরের জমিহারা কৃষক ও আইলাতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রসঙ্গই উল্লেখ করেছেন। প্রাপকদের কোনো সংখ্যাও তিনি বলেননি। যদিও জঙ্গলমহল, পাহাড়, চা বাগান এলাকার বাসিন্দা, টোটো জনজাতি প্রভৃতিদের জন্যও অতিরিক্ত খাদ্যের প্যাকেজ আছে। এসব প্যাকেজে মাসে মাথাপিছু ১৬ কেজি, ১১ কেজি, ৬ কেজি করে অতিরিক্ত চাল দেওয়া হয়। রেশনে সাধারণভাবে যতটা খাদ্যশস্য পাওয়ার কথা, তাও তাঁরা পান। এর জন্য যে অতিরিক্ত ভরতুকি লাগে, তা পুরোপুরি রাজ্য সরকার বহন করে। বিজেপি সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় এসে যে বাজেট পেশ করেছে, তাতে লোধা, শবর, টোটো প্রভৃতি জনজাতিদের জন্য খাদ্যের বিশেষ প্যাকেজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেই প্যাকেজে চাল ছাড়াও আলু, ভোজ্য তেল, নুন, চিনি থাকবে।