


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলতন্ত্র! কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে জনপ্রতিনিধিদের বসিয়ে বিজেপি সরকারও তৃণমূল সরকারের পথে হেঁটেছে। নিয়ম অনুযায়ী, সভাপতি বা পরিচালন সমিতির সদস্য হওয়ার জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা গ্র্যাজুয়েশনে বাঁধা। তবে, নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সেই যোগ্যতাই নেই। কেন এই অনিয়ম হল? এই প্রশ্ন তুলে ই-মেলের মাধ্যমে শিক্ষাসচিব বিনোদ কুমারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন জনৈক শান্তনু পাল। রাজ্যপাল আর এন রবির কাছেও কপি পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগে শান্তনুবাবুর বক্তব্য, ২০১৪ সালের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অর্ডার অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট না হলে তাঁদের পরিচালন সমিতিতে রাখা যাবে না। সেই অর্ডারটি কি বাতিল হয়েছে? হয়ে থাকলেও বাতিলের অর্ডারটির নম্বর কী? যদি বিশেষ অর্ডারের ভিত্তিতে এই জনপ্রতিনিধিদের কলেজের মাথায় আনা হয়ে থাকে, সেটারই বা প্রত্যয়িত কপি কোথায়? তিনি প্রশ্ন তুলেছেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ, মাদারিহাটের বিধায়ক লক্ষ্মণ লিম্বু, পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষারকুমার মজুমদার এবং কৃষ্ণনগরের বিধায়ক সাধন ঘোষের পরিচালন সমিতির সদস্য হওয়া নিয়ে।
শান্তনুবাবু তাঁদের এফিডেভিটের কপিও ই-মেলে জুড়ে দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্মণ লিম্বু দশম উত্তীর্ণ। বাকিরা উচ্চ মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষায় পাশ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী বলছেন? লক্ষ্মণ লিম্বুর সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তোলেননি সৌমিত্র খাঁ। তুষারকুমার মজুমদার বলেছেন, তিনি গ্র্যাজুয়েট। যে কলেজে পড়াশোনা করেছেন, সেখানেই দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এর জন্য তিনি খুশি। তাঁর কাছে গ্র্যাজুয়েশনের শংসাপত্র রয়েছে। এফিডেভিটে তা উল্লেখ না করার বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। সাধন ঘোষ মেনে নিয়েছেন, দ্বিতীয় বর্ষের পরে ব্যবসায়ে যোগ দেওয়ায় তাঁর পক্ষে প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। তবে, দল তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি খুশি। তাঁর বক্তব্য, নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তে এই দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে।
সৌমিত্রবাবু বাঁকুড়ার রমানন্দ কলেজের দায়িত্ব পেয়েছেন। লক্ষ্মণ লিম্বু হয়েছেন বীরপাড়া কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি। তুষারকুমার মজুমদার দায়িত্ব পেয়েছেন বিজয় নারায়ণ কলেজ ও শরৎ সেন্টিনারি কলেজের। আর সাধনবাবুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আসন্নগড় মদনমোহন তর্কালঙ্কার কলেজের। অভিযোগকারীর বক্তব্য, ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যাক্ট ২০১৭-তেও এভাবে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্তে ছাড় দেওয়ার কথা বলা নেই।
এদিন একটি অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য দাবি করেন, বাম আমলে ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচন এবং স্কুল কলেজের পরিচালন সমিতিগুলির নির্বাচনের জন্য অশান্তি লেগে থাকত। এমনকি, বোমাও পড়ত। জনপ্রতিনিধিদের নিয়োগ যে তৃণমূল আমলের সংশোধনীর ভিত্তিতেই করা হয়েছে, তা মনে করিয়ে দেন তিনি। এও জানান, জনপ্রতিনিধিদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত বিজেপি দলই নিয়েছে। এর জন্য দলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্য, যাঁদের পাঠানো হয়েছে তাঁরা স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। এটা অস্থায়ী ব্যবস্থা। আরও ২০০টি কলেজে সভাপতি নিয়োগ করা হবে। পঠনপাঠন, হাজিরা, সময়মতো পরীক্ষা ও ফলপ্রকাশের জন্য এগুলি জরুরি।